উদ্দীপকে ইশতিয়াকের কথাটি যথার্থ। কারণ সে একটি শ্রেণিবাচক পদকে কেবল একটি মূলসূত্রের ভিত্তিতে আলাদা করার কথা উল্লেখ করেছে।
যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে মূলনীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এ বিভাগে একই সময়ে একটিমাত্র মূলনীতির ভিত্তিতে কোনো শ্রেণিকে ভাগ করা হয় । কারণ, একই সময়ে একাধিক মূলসূত্রের ভিত্তিতে কোনো শ্রেণিকে ভাগ করা হলে বিভক্ত উপশ্রেণিগুলোর একটার সঙ্গে অন্যটার পার্থক্য বজায় রাখা যায় না । একাধিক বৈশিষ্ট্যকে বিভাজনের মূলনীতি হিসেবে ব্যবহার করার ফলে এক উপশ্রেণির বৈশিষ্ট্য অন্য উপশ্রেণিতেও পাওয়া যায়।
সর্বোপরি কোনো পদের যৌক্তিক বিভাগে একটির পরিবর্তে একাধিক মূলনীতি গ্রহণ করা হলে 'সংকর বিভাগ অনুপপত্তি' (Fallacy of Cross Division) ঘটে। যেমন- মানুষকে 'সৎ', 'বিমান' ও 'দীর্ঘকায়' এভাবে বিভক্ত করা হলে উক্ত অনুপপত্তি ঘটে। এখানে বিভাগের তিনটি মূলসূত্র হিসেবে 'সত্যতা', 'বিদ্যা' ও 'উচ্চতা' গ্রহণ করা হয়েছে। কাজেই বিভক্ত উপশ্রেণিগুলো পরস্পর মিশে গেছে। কেননা, কোনো বিদ্বান লোক সৎ এবং দীর্ঘকায়ও হতে পারেন।
পরিশেষে বলা যায়, উল্লেখিত অনুপপত্তির আশঙ্ক্ষা অনুধাবন করেই উদ্দীপকের ইশতিয়াক তার ছোট ভাই প্রাপ্তকে বলে, যখন কোনো শ্রেণিবাচক পদকে কেবল একটি মূলসূত্রের ভিত্তিতে আলাদা করা হয় তখন অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। তাই আমি ইশতিয়াকের বক্তব্যকে যথার্থ বলে মনে করি।