উদ্দীপকের দৃশ্য-২ এ অঙ্গগত বিভাগ এবং দৃশ্য-৩ এ গুণগত বিভাগ নির্দেশ করেছে। কেননা, উদ্দীপকের দৃশ্য দুটির একটিতে ঘড়িকে তার বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। আর অন্যটিতে কাঁঠালকে তার বিভিন্ন গুণসমূহ বিভক্ত করা হয়েছে।
নিচের অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগের মধ্যে পার্থক্য মূল্যায়ন করা হলো-
উদ্দীপকের দৃশ্য-২ এ অঙ্গগত বিভাগ পরিলক্ষিত হয়। কেননা এখানে একটি ঘড়িকে তার কাঁটা, ব্যাটারি, মটর, গোলক ইত্যাদি বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করেছে। যৌক্তিক বিভাগের মূল লক্ষ্য হলো কোনো জাতি বা শ্রেণিবাচক পদকে তার অন্তর্গত উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিভক্ত করা। আর এ বিভাজন প্রক্রিয়ায় যৌক্তিক বিভাগকে কতকগুলো নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়ম অনুসারে কেবল জাতি বা শ্রেণিবাচক পদের যৌক্তিক বিভাগ করা যায়। কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা বস্তুর নয়। যৌক্তিক বিভাগের এ নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো জাতি বা শ্রেণির পরিবর্তে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে তার অঙ্গসমূহ বিভাগ করলে বিভাজন প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ হয়। যৌক্তিক বিভাগে কোনো বন্ধু বা ব্যক্তিকে তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গে বিভক্ত করলে যে অনুপপত্তি ঘটে তাকে বলা হয় অঙ্গগত বিভাগ অনুপপত্তি। তাই দৃশ্য-২ এ একটি ঘড়িকে তার অঙ্গসমূহে বিভক্ত করায় অঙ্গগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।
অপরদিকে, যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়ম অনুসারে কোনো জাতি বা শ্রেণিবাচক পদের যৌক্তিক বিভাগ করতে হয় কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি বস্তুকে নয়। যৌক্তিক বিভাগের এ নিয়ম লঙ্ঘন করে যদি কোনো জাতি বা শ্রেণির পরিবর্তে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে তার গুণসমূহকে ভাগ করা হয় তাহলে যে অনুপপত্তি ঘটে তাকে বলা গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি। উদ্দীপকের দৃশ্য-৩ এ একটি কাঁঠালকে তার রং, আকার ও দ্বাদ ইত্যাদি বিভিন্ন গুণসমূহে বিভক্ত করে দেখানো হয়েছে। ফলে এখানে যৌক্তি সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।
পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকের দৃশ্য-২ ও দৃশ্য-৩ এ যথাক্রমে অঙ্গগত ও গুণত বিভাগ অনুপপত্তি দোষে দুষ্ট। কেননা উভয় বিভাগেই যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। যার ফলে উভয় বিভাজনই অবৈধ হয়েছে।