উদ্দীপকে প্রতিফলিত বিষয়টি তথা যৌক্তিক বিভাগটি যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেছে।
কোনো নীতি বা সূত্রের ওপর ভিত্তি করে একটি জাতি বা উচ্চতর শ্রেণিকে তার অন্তর্গত উপজাতি বা নিম্নতর শ্রেণিসমূহের মধ্যে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক বিভাগ বলে। এ বিভাগ প্রক্রিয়া শুদ্ধ করার জন্য পাঠ্যবইয়ে কয়েকটি নিয়মের উল্লেখ করা হয়েছে। নিয়মগুলো হলো— প্ৰথম নিয়ম: যৌক্তিক বিভাগে সব সময় একটি জাতিবাচক পদকে বিভাগ করতে হবে, কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে নয়। দ্বিতীয় নিয়ম: যৌক্তিক বিভাগে একই সময় একটিমাত্র মূল-সূত্র গ্রহণ করতে হবে। তৃতীয় নিয়ম: বিভক্ত উপজাতিগুলোর ব্যক্ত্যর্থ মিলিতভাবে বিভাজ্য জাতিটির ব্যক্ত্যর্থের সঙ্গে সমব্যাপক হতে হবে। চতুর্থ নিয়ম: যৌক্তিক বিভাগে উপজাতিগুলোকে পরস্পর বিচ্ছেদক হতে হবে যাতে এগুলো একে অপরের সাথে মিশে না যায়। পঞ্চম নিয়ম: বিভাজ্য জাতিটির নাম বিভক্ত উপজাতিগুলোর প্রত্যেকের বেলায় প্রযোজ্য হতে হবে। ষষ্ঠ নিয়ম: ক্রমিক বিভাগে একটি জাতিকে তার সম্ভাব্য নিকটতম উপজাতিতে ভাগ করে অগ্রসর হতে হবে, মধ্যবর্তী কোন ধাপকে বাদ দেয়া যাবে না।
উদ্দীপকে 'লিঙ্গ' মূলনীতি ধরে কয়েদিকে পুরুষ কয়েদি ও মহিলা কয়েদি হিসেবে ভাগ করা হয়েছে। এরপর 'দণ্ডপ্রাপ্তি' মূলনীতির ভিত্তিতে পুরুষ কয়েদিকে সাধারণ কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পুরুষ কয়েদি, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রাপ্ত পুরুষ কয়েদি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পুরুষ কয়েদিতে ভাগ করা হয়েছে। এখানে একই সময় একটি মূলনীতির ভিত্তিতে একটি শ্রেণিবাচক পদের বিভাগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় এবং বিভাজ্য জাতি ও বিভক্ত উপজাতিগুলোর মিলিত ব্যক্ত্যর্থের সঙ্গে সমব্যাপক হওয়ায় যৌক্তিক বিভাগটি বৈধ হয়েছে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের যৌক্তিক বিভাগের দৃষ্টান্তটিতে যৌক্তিক বিভাগের নিয়মগুলো অনুসরণ করায় যৌক্তিক বিভাগটি যথার্থ হয়েছে ।