দৃশ্যকল্প-১ ও ২ এ নির্দেশিত বিভাগ দুটি হলো যথাক্রমে সংকর বিভাগ ও অব্যাপক বিভাগ। নিচে সংকর বিভাগ ও অব্যাপক বিভাগের আন্তঃসম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হলো-
সংকর বিভাগ একটি ত্রুটিপূর্ণ বিভাগ। যৌক্তিক বিভাগের দ্বিতীয় নিয়মটি হলো যৌক্তিক বিভাগে একই সময়ে একটিমাত্র মূলসূত্র থাকতে হবে। বিভাগের এ নিয়মটি লঙ্ঘন করলে বিভাগটি ভ্রান্ত হবে। এরূপ ভ্রান্ত বিভাগের নাম সংকর বিভাগ অনুপপত্তি। যেমন— উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ 'মানুষ' পদকে বিভাজন করতে গিয়ে সৎ, শিক্ষিত, অসৎ ও অশিক্ষিত এ বিভক্ত করায় সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে। কেননা, এখানে দুইটি মূলসূত্র 'সততা ও শিক্ষা' এর ভিত্তিতে বিভাগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অব্যাপক বিভাগ একটি ত্রুটিপূর্ণ বিভাগ। যৌক্তিক বিভাগের তৃতীয় নিয়ম হলো, বিভক্ত উপজাতিগুলোকে মিলিতভাবে বিভাজ্য জাতিটির সাথে সমব্যাপক হতে হবে। বিভাগের এ নিয়মটি লঙ্ঘন করার ফলে যদি কোন বিভাগে দেখা যায় যে, উপজাতিগুলোর সমষ্টিগত ব্যক্ত্যর্থ বিভাজ্য জাতিটির ব্যক্ত্যর্থ থেকে কম হয়েছে তাহলে বিভাগটি ত্রুটিপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে এবং এরূপ ত্রুটিকে অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি বলে । যেমন- উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ 'টেবিল' পদটিকে তার উপাদানের উপর ভিত্তি করে লোহার, কাঠের, স্টিলের ও কাঁচের এই চার ভাগে ভাগ করার পরও 'টেবিল' পদের সম্পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থ প্রকাশ পায়নি। কেননা স্বর্ণ, রূপা ও প্লাস্টিকসহ আরো বিভিন্ন উপাদানের টেবিলের অস্তিত্ব রয়েছে যেগুলো উক্ত বিভাগে বাদ দেয়া হয়েছে। তাই বলা যায়, এটি অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তির একটি দৃষ্টান্ত।
আলোচনা শেষে বলা যায়, সংকর বিভাগ ও অব্যাপক বিভাগ দুটি যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম বহির্ভূত বিভাগ হওয়ায় উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যগত আন্তঃসম্পর্ক বিদ্যমান।