উদ্দীপকের 'দৃষ্টান্ত-২'-এ অতিব্যাপক বিভাগ ও 'দৃষ্টান্ত-৩'-এ অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে। আর উভয়ক্ষেত্রেই যৌক্তিক বিভাগের তৃতীয় নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে।
যৌক্তিক বিভাগে একটি মূলনীতির ভিত্তিতে কোনো জাতি বা শ্রেণিবাচক পদকে উপশ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়। যৌক্তিক বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে যেগুলো কোনো জাতি বা শ্রেণির যৌক্তিক বিভাগ করার ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে অনুসরণ করতে হয়। যৌক্তিক বিভাগের তৃতীয় নিয়ম অনুযায়ী বিভাজ্য মূল জাতির ব্যক্ত্যর্থ এবং বিভক্ত উপজাতিগুলোর ব্যক্ত্যর্থ পরস্পর সমান হবে। এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে অর্থাৎ, কোনো পদের যৌক্তিক বিভাগে বিভাজ্য মূল জাতির ব্যত্ত্যর্থের চেয়ে বিভক্ত উপজাতিগুলোর ব্যক্ত্যর্থ বেশি হলে বিভাগ ত্রুটিপূর্ণ হয়। যৌক্তিক বিভাগের এ ত্রুটিকে অতিব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি বলে। উদ্দীপকের 'দৃষ্টান্ত-২'-এ 'বাংলাদেশের মানুষ' পদটির ব্যত্ত্যর্থের চেয়ে 'বাঙালি + অবাঙালি + মুসলিম' এ তিনটি পদের মিলিত ব্যক্ত্যর্থ বেশি। তাই এখানে অতিব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।
অপরপক্ষে, যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে বিভাজ্য মূল জাতির ব্যক্ত্যর্থের চেয়ে বিভক্ত উপজাতিগুলোর ব্যক্ত্যর্থ কম হলেও বিভাগ ত্রুটিপূর্ণ হয়। কেননা
যৌক্তিক বিভাগের তৃতীয় নিয়ম অনুযায়ী বিভাজ্য মূল জাতির ব্যক্ত্যর্থ ও বিভক্ত উপজাতিগুলোর ব্যক্ত্যর্থ পরস্পর সমান হবে। এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে অর্থাৎ, বিভাজ্য মূল জাতির ব্যক্ত্যর্থের চেয়ে বিভক্ত উপজাতিগুলোর ব্যক্ত্যর্থ কম হলে অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে। উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত- ৩'-এ 'বাংলাদেশের মানুষ' পদটির ব্যক্ত্যর্থের চেয়ে হিন্দু ও মুসলিম পদ দুটির মিলিত ব্যক্ত্যর্থ কম। অর্থাৎ, এখানে মূল জাতির ব্যক্ত্যর্থের চেয়ে বিভক্ত উপজাতিগুলোর ব্যক্ত্যর্থ কম হয়েছে। তাই এখানে অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।