উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এর বিভাজন প্রক্রিয়াটি একটি সঠিক যৌক্তিক বিভাগ এবং দৃষ্টান্ত-২ এর বিভাজন প্রক্রিয়াটি সংকর বিভাগ। নিচে এদের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো- যৌক্তিক বিভাগে একটি পদের ব্যক্ত্যর্থের বিশ্লেষণ করা হয়। এক্ষেত্রে কোনো জাতি বা শ্রেণিবাচক পদের ব্যক্ত্যর্থ বিশ্লেষণ করে তার অন্তর্গত • উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়। তাই বলা যায়, একই সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য মূলনীতির ভিত্তিতে কোনো জাতি বা শ্রেণিবাচক পদকে তার অন্তর্গত উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিন্যস্ত করার মানসিক প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক বিভাগ বলে। উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এ 'মানুষ' নামক শ্রেণিবাচক পদটিকে একটিমাত্র মূলনীতির (সভ্যতার) ভিত্তিতে 'সভ্য মানুষ' ও 'অসভ্য মানুষ' এই দুটি উপজাতিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে। 'মানুষ' শ্রেণিবাচক পদটির যে ব্যস্তার্থ বিভক্ত উপজাতিদ্বয়ের (সভ্য মানুষ ও অসভ্য মানুষ) ব্যস্তার্থের সমান। এখানে একটিমাত্র মূলনীতি অনুসরণ করার কারণে বিভক্ত উপজাতিগুলো পরস্পর পৃথক রয়েছে। এছাড়া এখানে যৌক্তিক বিভাগের অন্যান্য নিয়মও অনুসরণ করা হয়েছে। অতএব বলা যায়, 'দৃষ্টান্ত-১' এর বিভাজন প্রক্রিয়াটি একটি সঠিক যৌক্তিক বিভাগ। পক্ষান্তরে, দৃষ্টান্ত-২ এর বিভাজন প্রক্রিয়াটি সংকর বিভাগ। কেননা যৌক্তিক বিভাগের দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী কোনো একটি পদের যৌক্তিক বিভাগ করার ক্ষেত্রে একই সময়ে একটিমাত্র মূলনীতি অনুসরণ করতে হয়, একের অধিক নয়। একই সময় একাধিক মূলনীতি অনুসরণ করে যৌক্তিক বিভাগ করলে বিভাগ ত্রুটিপূর্ণ হয়। যৌক্তিক বিভাগের এই ত্রুটিকে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি বলে। উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-২ এ দেখা যাচ্ছে, এখানে 'মানুষ' পদের যৌক্তিক বিভাগ করার ক্ষেত্রে একই সময়ে 'শিক্ষা' ও 'সভ্যতা' এই দুটি মূলনীতি অনুসরণ করা হয়েছে। যেহেতু এখানে দুটি মূলনীতি অনুসরণ করা হয়েছে তাই এখানে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে। পরিশেষে বলা যায়, দৃষ্টান্ত-১ এ একটিমাত্র মূলনীতি অনুসরণ করে যৌক্তিক বিভাগ করার ফলে এটি একটি সঠিক যৌক্তিক বিভাগ এবং দৃষ্টান্ত-২ এ একই সময়ে একের অধিক মূলনীতি অনুসরণ করে বিভাজন করায় এতে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।