যচিত্র-২ এ ফুলকে স্থলজ ও জলজ উপজাতিতে ভাগ করা হয়েছে। আমরা জানি, কোনো বিভাজন প্রক্রিয়াকে যথার্থ হতে গেলে যৌক্তিক বিভাগের কতিপয় নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। চিত্র-২ এর যৌক্তিক বিভাজন প্রক্রিয়া যথার্থ। যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়ম অনুসারে যৌক্তিক বিভাগে একটি জাতিবাচক পদকে বিভাগ করতে হবে, কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে নয়। চিত্র-২ এ 'ফুল' একটি জাতিবাচক পদ, যাকে তার অন্তর্গত উপজাতিতে ভাগ করা হয়েছে। দ্বিতীয় নিয়ম হলো যৌক্তিক বিভাগে একই সময় একটিমাত্র বিভাগের মূলসুত্র গ্রহণ করতে হবে। চিত্র-২ এর বিভাজনে একটিমাত্র মূলসূত্র গ্রহণ করা হয়েছে। তৃতীয় নিয়ম হলো বিভক্ত উপজাতিগুলোর ব্যক্ত্যর্থ মিলিতভাবে বিভাজ্য জাতিটির ব্যক্ত্যর্থের সমান হতে হবে। চিত্র-২ এ স্থলজ ফুল ও জলজ ফুল-এর মিলিত সংখ্যা ফুলের সংখ্যার সমান। চতুর্থ নিয়ম হলো যৌক্তিক বিভাগে উপজাতিগুলোকে পরস্পর বিচ্ছেদক হতে হবে, যাতে এগুলো একে অপরের সাথে মিলেমিশে না যায়। চিত্র-২ এ উপজাতিগুলো পরস্পর বিচ্ছেদক। পঞ্চম নিয়ম হলো বিভাজ্য জাতিটির নাম বিভক্ত উপজাতিগুলোর প্রত্যেকের বেলায় প্রযোজ্য হতে হবে। চিত্র-২ এ স্থলজ ও জলজ ফুলকে তার জাতির নামেই আখ্যায়িত করা যায় এবং ষষ্ঠ নিয়ম হলো ক্রমিক বিভাগে একটি জাতিকে তার সম্ভাব্য উপজাতিতে ভাগ করে অগ্রসর হতে হবে, মধ্যবর্তী কোনো ধাপকে বাদ দেওয়া চলবে না। চিত্র-২ এ ফুল জাতিকে ভাগ করার সময় কোনো মধ্যবর্তী ধাপকে বাদ দেওয়া হয়নি। সুতরাং বলা যায়, চিত্র-২ এর বিভাজন প্রক্রিয়া যৌক্তিক বিভাগের সব নিয়ম অনুসরণ করেছে-বিধায় এটি যথার্থ বিভাজন প্রক্রিয়া।