উদ্দীপকে উল্লিখিত অনুমানটি হলো সহানুমান। নিচে সহানুমানের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো।
প্রথমত, সহানুমানে দুটি আশ্রয়বাক্য থাকে। এ দুটি আশ্রয়বাক্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়। যেমন- সকল জীব হয় সংবেদশীল (আশ্রয়বাক্য) মানুষ হয় জীব (আশ্রয়বাক্য)
∴ মানুষ হয় সংবেদনশীল (সিদ্ধান্ত)।
দ্বিতীয়ত, সহানুমানে মোট তিনটি যুক্তিবাক্য থাকে। অর্থাৎ দুটি আশ্রয়বাক্য এবং একটি সিদ্ধান্ত মিলে মোট তিনটি যুক্তিবাক্য হয়। তৃতীয়ত, সহানুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যদ্বয় থেকে বেশি ব্যাপক হতে পারে না। কারণ, অবরোহ অনুমান হিসেবে সহানুমানে সর্বদাই সার্বিক আশ্রয়বাক্য থেকে বিশেষ সিদ্ধান্ত অনুসৃত হয়। অর্থাৎ এ অনুমানের গতি নিম্নমুখী। চতুর্থত, সহানুমানের সিদ্ধান্তের সত্যতা এর আশ্রয়বাক্যের সত্যতার ওপর নির্ভর করে। অর্থাৎ সহানুমানের আশ্রয়বাক্য দুটো সত্য হলে এবং তা থেকে সিদ্ধান্তটি নিয়ম সংগত উপায়ে নিঃসৃত হলে সেই সিদ্ধান্ত সত্য হবে। পঞ্চমত, একটি সহানুমানে তিনটি পদ থাকে। ১. প্রধান পদ ২. অপ্রধান পদ এবং ৩. মধ্যপদ। যেমন- সকল দার্শনিক জন জ্ঞানী। রাসেল হন দার্শনিক। ∴ রাসেল হন জ্ঞানী।
এখানে জ্ঞানী প্রধান পদ, রাসেল অপ্রধান পদ এবং দার্শনিক মধ্যপদ। সুতরাং, ওপরে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো সহানুমানে বিদ্যমান।