উদ্দীপকে উল্লিখিত বহুকারণবাদ (Plurality of Causes) বিষয়টি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। বহুকারণবাদ অনুযায়ী একটি কার্যের একাধিক কারণ থাকতে পারে। অর্থাৎ একই কার্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণ দ্বারা সংঘটিত হতে পারে। বহুকারণবাদ বিজ্ঞানসম্মত কোনো মতবাদ নয়। বহুকারণবাদীরা কারণকে ব্যাখ্যা করেছেন বিশেষভাবে, কিন্তু কার্যকে ব্যাখ্যা করেছেন সার্বিকভাবে। আমরা যদি কার্য ও কারণ উভয়কে একই দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করি অর্থাৎ উভয়কেই বিশেষভাবে অথবা উভয়কেই সার্বিকভাবে বিচার করি, তাহলে দেখা যায় বহুকারণবাদ কোনো যথার্থ মতবাদ নয়। যেমন: 'মৃত্যু' নামক কার্যটির সাধারণ কারণ হলো হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া। দুর্ঘটনা, বিষপান, গুলিবিদ্ধ হওয়া কিংবা কোনো রোগ- শোক যেভাবেই মৃত্যু হোক না কেনো প্রত্যেক ক্ষেত্রেই মৃত্যুর মূল কারণ একটি, আর তা হলো হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া। বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞা অনুযায়ী, কারণ (Cause) হলো কোনো কার্যের অব্যবহিত পূর্ববর্তী, অপরিবর্তনীয় ও শর্তহীন ঘটনা বা ঘটনাসমূহের সমষ্টি। কিন্তু বহুকারণবাদ অনুযায়ী কোনো কার্যের কারণ সর্বদা পরিবর্তনশীল, যা কারণের বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞার সাথে অসংগতিপূর্ণ। উদ্দীপকে বর্ণিত 'আলো' প্রাপ্তি একটি কার্য। এখানে আলোর কারণ হিসেবে সূর্য, বিদ্যুৎ, মোমবাতি, টর্চলাইট ও হারিকেনকে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বহুকারণবাদকে নির্দেশ করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আলোর অব্যবহিতপূর্ববর্তী, অপরিবর্তনীয় ও শর্তহীন ঘটনা হচ্ছে ফোটন (Photon)। অর্থাৎ 'আলো' কার্যের মূল কারণ হলো ফোটন। যেকোনো উৎস থেকে বা যেভাবেই আলো আসুক না কেনো মূলত ফোটনের কারণেই আমরা আলো পেয়ে থাকি। তাই আলোর উৎস বহু হলেও কারণ বহু নয়।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বহুকারণবাদ বিষয়টি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যাবহারিক মূল্য অস্বীকার করা যায় না।