উদ্দীপকে উল্লেখিত বিজয়ের সংগঠনটি হলো চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন এক ধরনের গোষ্ঠী যা সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা আবদ্ধ। স্বার্থের ভিত্তিতে তারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের আচরণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী তাদের পছন্দের দল ও ব্যক্তিকে অর্থ দিয়ে বা অন্যভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে। এসব নেতা বা ব্যক্তি নির্বাচিত হয়ে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পক্ষে আইন প্রণয়ন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা যেহেতু রাষ্ট্রের নাগরিক এবং তারা সংগঠিত, সেহেতু সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ভূমিকা অনন্য। নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করানোর জন্য শাসন বিভাগের ওপর প্রভাব বিস্তার করা চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান লক্ষ্য। ফলে কর্তৃপক্ষ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর স্বার্থে অনুকূলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধ্য হয়। যা সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় অন্যান্য কাজেও অংশ নেয়। সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর দক্ষতা সাথে জনকল্যাণের ভূমিকা রাখে, বা সুশাসনের সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়া তারা সরকারের ওপর নানা উপায় প্রভাব বিস্তার করে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে ভূমিকা পালন করে। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী তথ্য অধিকার ভোগের মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কার্যকলাপের উপর নজরদারী করতে পারে। আলোচনা শেষে বলা যায়, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।