উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' সংগঠনটির নাম হলো আমলাতন্ত্র। রাষ্ট্রের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এর গতিশীলতা অপরিহার্য।আমলাতন্ত্র হলো অভিজ্ঞ, নিরপেক্ষ, স্থায়ী ও পেশাজীবী কর্মকর্তাবৃন্দের দ্বারা পরিচালিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়িত হয়। আধুনিক রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যাপক ফাইনারের মতে, 'আমলাতন্ত্রের কার্যাবলি কেবল সরকারের উন্নতি সাধনই নয়, প্রকৃতপক্ষে আমলাদের ছাড়া সরকার পরিচালনাই অসম্ভব। উদ্দীপকের 'ক' সংগঠনের মধ্যে আমলাতন্ত্রের চিত্রই ফুটে উঠেছে।উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রের সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে 'ক' সংগঠন কাজ করে। এ সংস্থার সদস্যবৃন্দ জনগণ দ্বারা নির্বাচিত নয়, সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত। এখানে মূলত আমলাতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে। আমলাগণই রাষ্ট্রে সরকারের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করে থাকে। তবে রাষ্ট্রের উন্নয়নে আমলাতন্ত্রের গতিশীলতা বৃদ্ধি করতে হবে। আমলাগণ তাদের সব কাজকর্মই বাস্তবায়ন করতে চান প্রশাসনিক নিয়ম-নীতি ও বিধি-বিধানের আলোকে। বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিধি মোতাবেক যথাযোগ্য নিয়মে অগ্রসর হতে গিয়ে সময় নষ্ট হয় এবং সমস্যা আরো জটিল হয়ে পড়ে। জনগণের হয়রানি বেড়ে যায়। এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনের মুহূর্তেও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় না। আমলাতন্ত্রের এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে রাষ্ট্রের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। তাই রাষ্ট্রের উন্নয়নে আমলাতন্ত্রের জটিলতা কমিয়ে এনে এর গতিশীলতাবৃদ্ধি করতে হবে। অন্যথায় রাষ্ট্রের যথাযথ উন্নয়ন স্থবির হয়ে পড়বে। পরিশেষে বলা যায়, সরকারের সব সিদ্ধান্ত আমলারাই বাস্তবায়ন করেন। সে কারণেই আমলাতন্ত্রের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না, যা রাষ্ট্রের উন্নয়নকে ব্যাহত করে। তাই রাষ্ট্রের উন্নয়নে আমলাতন্ত্রের গতিশীলতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।