উদ্দীপকে 'ক' এর সংগঠন দ্বারা রাজনৈতিক দল, আর 'খ' এর সংগঠন দ্বারা চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে বোঝানো হয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে 'খ' এর সংগঠন অপেক্ষা 'ক' এর সংগঠনের গুরুত্ব বেশি। রাজনৈতিক দল বলতে এমন একটি সংঘকে বোঝায়, যা কতগুলো সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন করতে চায়। আর চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন এক সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠী, যা সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর চেয়ে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব অনেক বেশি। কেননা, আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হলো রাজনৈতিক দল। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব নিম্নরূপ:প্রথমত; গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক শক্তির মূল উৎস হলো জনগণ। গণতন্ত্রকে সফল করতে হলে প্রয়োজন সক্রিয়, সচেতন ও সদাজাগ্রত জনমত। রাজনৈতিক দল বক্তৃতা-বিবৃতি ও প্রচারের মাধ্যমে সেরূপ জনমত সৃষ্টি করে।দ্বিতীয়ত; জনগণ সাধারণত স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো বিষয়ে সহজে একমত হতে পারে না। রাজনৈতিক দল জনগণের ভিন্নমুখী ও বিক্ষিপ্ত মতামতকে সংগঠিত করে। এজন্যই রাজনৈতিক দলকে 'স্বার্থ একত্রীকরণকারী' বলা হয়।
তৃতীয়ত; গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলই জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।চতুর্থত; প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে সরকারি দল যেন গণবিরোধী, স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্য বিরোধী দলগুলো সতর্ক দৃষ্টি রাখে। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে বিরোধী দলকে 'বিকল্প সরকার' বলা হয়।পরিশেষে বলা যায়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলব্যবস্থা ব্যতীত গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে পড়ে। সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার গতি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। আর এসকল কারণেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী অপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।