সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বে ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: নেতৃত্ব হচ্ছে সামাজিক গুণ। সমাজ ও রাষ্ট্রকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করাই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটে জর্জরিত সমাজ ও রাষ্ট্রে সুযোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন। কেননা সুযোগ্য নেতৃত্ব ছাড়া কোনো জাতি বা রাষ্ট্র অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলো নেতৃত্বের গুণেই সুনিয়ন্ত্রিত ও সুচারুরূপে পরিচালিত হয়। পরিবর্তনশীল সমাজকে সুযোগ্য নেতৃত্বই প্রগতির পথে এগিয়ে নিতে পারেন, জাতীয় একাত্মতার সংকট কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারেন। সুযোগ্য নেতৃত্ব একটি জনসমাজকে জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন, স্বাধীন জাতি হিসেবে সুসংগঠিত করে তুলতে পারেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এরূপ নেতৃত্বের উজ্জ্বল উদাহরণ। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বের ভূমিকা নিম্নরূপ: ১. দলীয় নীতি নির্ধারণ: নেতৃত্বের প্রথম কাজ হলো নিজ দলের নীতি নির্ধারণ। নীতি নির্ধারণের ওপর সংগঠনের সাফল্য নির্ভর করে। তবে দলীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন তা সুশাসনের সহায়ক হয়। ২. রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ: নেতৃত্বের অন্যতম কাজ হলো রাষ্ট্রীয় নীতি সম্পর্কে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি স্থির করা। ভবিষ্যতে দল ক্ষমতায় গেলে কীভাবে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ করা হবে এবং সেক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় প্রাধান্য পাবে এবং তা সুশাসনকে ত্বরান্বিত করবে কীনা সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা কার্যকর করত হবে। ৩. সুষ্ঠু জনমত গঠন: জনমত গঠনে নেতৃত্বের ভূমিকা অসামান্য। সুস্থ, সুন্দর, সুষ্ঠু ও কল্যাণকামী জনমত গঠন করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথকে প্রশস্ত করতে নেতৃত্ব যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারে। ৪. রাজনৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি: নেতাদের বক্তব্য জনগণকে রাজনৈতিকভাবে শিক্ষিত ও সচেতন করে তোলে। জনগণের রাজনৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে সুশাসনও নিশ্চিত হয়। ৫. সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন: নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দলকে শক্তিশালী করা, নির্বাচনে জয়লাভ এবং সরকার গঠন করা। সুযোগ্য নেতৃত্ব জয়যুক্ত হয়ে সরকার গঠন করে রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও সঠিক ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তৎপর হন। ৬. জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ়করণ: সুযোগ্য নেতৃত্ব বক্তব্য-বিবৃতি এবং প্রচার-প্রচারণা দ্বারা জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করে তোলেন। এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। ৭. সমন্বয় সাধন: সুযোগ্য নেতৃত্ব বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের কাজের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় ঘটিয়ে রাষ্ট্রের উন্নয়ন ঘটান এবং সুশাসন নিশ্চিত করেন। ৮. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুদৃঢ়করণ: সুযোগ্য নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখে। এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ও ব্যক্তি স্বাধীনতা সুরক্ষিত হয়। দক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলা, দ্বায়িত্বশীলতা ৩ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
HSC Civics 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 1st Paper · সৃজনশীল
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বে ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপক
সোনার বাংলা কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর