প্রতিনিধিতলক গণতন্ত্রের প্রাণ হচ্ছে রাজনৈতিক দল”— উক্তিটি যথার্থ।
আধুনিক গণতন্ত্র বলতে প্রতিনিধিমূলক গণতন্ত্রকেই বোঝায়। আর এ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক শক্তির মূল উৎস হলো জনগণ। পদক্ষেকে সহ্য করতে হলে প্রয়োজন সক্রিয়, সচেতন ও সদাজাগত জনমত। রাজনৈতিক দল বক্তৃতা বিবৃতি ও প্রচারের মাধ্যমে সেরূপ জনমত সৃষ্টি করে। নির্বাচনের সময় নাগরিকগণ রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন কর্মসূচির লক্ষ্য থেকে সবচেয়ে কল্যাণকর ও বাস্তবমুখী কর্মসূচিসম্পন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি আস্থা ও সমর্থন জ্ঞাপন করে। জনগণের ভিন্নমুখী ও বিক্ষিপ্ত মতামতকে সংগঠিত করতে পারে একমাত্র রাজনৈতিক দল। এজন্যই প্রতিনিধিমূলক গণতন্ত্রের সফলতা নির্ভর করে রাজনৈতিক দলের ওপর। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলই জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। সরকারি দল ও বিরোধী দলগুলোর বক্তব্যের মাধ্যমে জনগণ নিজের দেশ ও দেশের সমস্যা সম্পর্কে জানতে পারে। এছাড়া সরকারি দল যেন গণবিরোধী কাজে লিপ্ত না হয়, স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্য বিরোধী দলগুলো সতর্ক দৃষ্টি রাখে। রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য, বিবৃতি ও কর্মসূচি জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে। জনগণ রাজনৈতিক দলের বক্তব্য থেকে দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যাবলি জানতে পারে।
রাজনৈতিক দল শান্তিপূর্ণ উপায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনে সাহায্য করে। এজন্য বিপ্লব বা বিদ্রোহের প্রয়োজন হয় না। রাজনৈতিক দল বিভিন্ন কর্মসূচি, সভা, সেমিনার বক্তৃতা, মিছিল ইত্যাদির মাধ্যমে নাগরিকদের রাজনৈতিক শিক্ষা দিয়ে সুনাগরিক হতে সাহায্য করে। মূলত আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূলভিত্তি হলো দলীয় ব্যবস্থা, যার প্রাণ হলো রাজনৈতিক দল।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায় যে, রাজনৈতিক দল ব্যতীত কোনোভাবেই প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের অগ্রগতি প্রত্যাশা করা যায় না। একারণেই রাজনৈতিক দলকে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়।