নানাবিধ কার্যক্রমের মাধ্যমে উদ্দীপকে উল্লেখিত জাহিদের সংগঠনটি অর্থাৎ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সুশাসন নিশ্চিত করে বলে আমি মনে করি ।
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে কোনো সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠী যারা নিজেদের স্বার্থরক্ষা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের আচরণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। উদ্দীপকে উল্লেখিত জাহিদের সংগঠনটি নিজেদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করে এবং সরকারি সিদ্ধান্তসমূহকে নিজেদের অনুকূলে রাখার চেষ্টা করে, যা চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকেই নির্দেশ করে। এই চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীগুলো সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ভূমিকার ক্ষেত্রে দেখা যায়, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণেও নিয়োজিত থাকে। তারা জনসাধারণের দাবিদাওয়াগুলো একত্রিত করে সরকারের নিকট তুলে ধরে। ফলে সরকার কর্তৃক পরিকল্পনা প্রণয়নে জনস্বার্থের প্রাধান্য নিশ্চিত হয় যা সুশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী শাসন বিভাগের কার্যক্রমে যাতে স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় সে ব্যাপারেও সজাগ দৃষ্টি রাখে। ফলে শাসন বিভাগে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ হ্রাস পায় যা সুশাসনের জন্য অত্যাবশ্যক। পাশাপাশি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। এর ফলে সুশাসনের পথ সুগম হয়। আবার উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীগুলো রাজনৈতিক দিক থেকে সমাজের বিভিন্ন পেশা ও বৃত্তিতে নিযুক্ত ব্যক্তিদের সমবেত এবং সংগঠিত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে। এছাড়া চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী জাতীয় সংকট মোকাবিলা, সম্পদের সুষম বণ্টন, জনমত গঠন, নেতৃত্ব সৃষ্টি প্রভৃতির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ ত্বরান্বিত করে।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, উল্লিখিত কার্যক্রমের মাধ্যমে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।