জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে বিশেষ নেতৃত্বের পরিচয় মেলে তার হলো সম্মোহনী নেতৃত্ব। কোন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যখন কোন নেতার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, নৈপুণ্য, প্রাঞ্জল বক্তব্য, সকলকে আকৃষ্ট করে এবং আবেগাপ্পুত করে তোলে এবং জনগণ মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় সে নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, তখনই সম্মোহনের নেতৃত্বের জন্ম হয়। প্রকৃতপক্ষে সম্মোহনের নেতৃত্ব হল এক জাদুকরি নেতৃত্ব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্মোহনী নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের একটি খন্ডিত অংশ উপস্থাপন করা হয়েছে। তার এরূপ বক্তব্য তার দৃঢ় নেতৃত্বেরই প্রতিফলন । আর তাই যখন তিনি ঘোষণা করেন -" আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমাদের কাছে অনুরোধ রইলো, ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো।তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করো। " এর বক্তব্য সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাধীনতার বীজ বপিত করে। মানুষ বিমোচিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করে। জাতির জনকের এরূপ নেতৃত্ব সম্মোহনী নেতৃত্বরই প্রতিফলন। কারণ পৌরনীতি ও সুশাসনের এরূপ নেতৃত্বকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলা হয়। কোন বিশেষ নেতা যখন তার বক্তব্য ও কাজের দ্বারা জনগণকে ভীষণভাবে সম্মোহিত, অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হন তখন তাকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বা জাদুকরী নেতৃত্ব বলা হয়। সমাজবিজ্ঞানি ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম এ জাতীয় নেতৃত্বে ধারণা প্রদান করেন। বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জাতীয় নেতৃত্বের উদাহরণ।