আব্দুল জামিল সাহেবের উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং গণতন্ত্রের মূলভিত্তিকে নির্দেশ করে। গণতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে বিভিন্ন মত ও পথের প্রতি
শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা প্রদর্শন করা হয়। সমাজের সকল নাগরিকের মতামত ও প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতেই গণতন্ত্রে সরকার গঠিত হয় ও জনগণ শাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে থাকে। গণতন্ত্রে যেহেতু বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শের মানুষ থাকে, তাই তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে স্থিতিশীল একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা অতীব জরুরি হয়ে পড়ে। এটি সম্ভব হয় গণতন্ত্রের সহনশীলতার বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে। সহনশীলতার মাধ্যমে নাগরিকেরা অন্যের মতকে সম্মান করে ও ভিন্নমতকে মেনে নিতে শিখে যা স্থিতিশীল একটি পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করে।
গণতন্ত্রে সকলেরই মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা ও অধিকার আছে। যদি কেউ অন্য মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয় ও সহ্য না করতে পারে, তবে সমাজে সংঘাতের সৃষ্টি হবে এবং গণতন্ত্রের মূলভিত্তি দুর্বল হয়ে যাবে। পরমত সহিষ্ণুতার মাধ্যমে গণতন্ত্রে অন্যের মতকে ধৈর্য ধরে শোনা ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবার অনুশীলন করে। এর ফলে সমাজে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
গণতন্ত্র ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষাকবচ এবং সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার প্রতীক। ব্যক্তির পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য মৌলিক অধিকারের নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব অধিকারের ভেতরে বাকস্বাধীনতা, চিন্তা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা অন্যতম। আবার গণতন্ত্রে সকলেই সমান, এবং এই সমানাধিকারের নীতি বাস্তবিকভাবেই প্রয়োগ করা হয়। এজন্য সহনশীলতা ও পরমত সহিষ্ণুতার চর্চা গণতন্ত্রে অনেক জরুরি। এর মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে ও গণতন্ত্রের চর্চা আরও সুন্দর হয়।
সুতরাং বলা যায়, আব্দুল জামিল সাহেবের উক্তি সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতা গণতন্ত্রের প্রাণ'- উক্তিটি যথার্থ ও বাস্তবসম্মত।