'ক' ও 'খ' ব্যবস্থা অর্থাৎ একদলীয় ও বহুদলীয় রাজনৈতিক দল ব্যবস্থার মধ্যে বহুদলীয় ব্যবস্থা আমার নিকট গ্রহণীয়।বহুদলীয় ব্যবস্থাই বর্তমান বিশ্বে সবর্জন স্বীকৃত ব্যবস্থা। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, একদলীয় কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা উগ্র ধর্মতান্ত্রিক শোষণ ও নির্যাতনের জাতাকলে পিষ্ট হয়ে জনগণকে একখন্ড পোড়া রুটির বেশি কিছু উপহার দিতে পারে নাই।বহুদলীয় ব্যবস্থার অর্থ হলো রাষ্ট্রে একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি। এ ব্যবস্থায় এক দল সরকার গঠন করলে অন্য দলসমূহ ছায়া সরকার হিসেবে সরকারের সব কর্মকান্ডের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখে ফলে সরকারকে জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হয়। বহুদলীয় ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কর্মসূচি জনসম্মুখে প্রকাশ করার ফলে জনগণ সহজে সাদা ও কালার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে। বহুদলীয় ব্যবস্থায় শুধু সরকারই চাপে থাকে না বিরোধী দলসমূহ তাদের কর্মসূচি ও কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের নিকট দায়বদ্ধ থাকে। এভাবে সরকারি দল ও বিরোধী দলের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সৃষ্টি হয় সুশাসন আর সুশাসনই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির। প্রধান বার্তাবাহক।বহুদলীয় ব্যবস্থায় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সরকার গঠিত হয়। তাই জনগণ সরকারকে তাদের অংশ মনে করে। জনমনে এ চেতনার জন্ম হয় যে, সরকার তাদের এরূপ পরিবেশে সরকার ও জনগণের মধ্যে Bonding অধিকতর মজবুত হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি হলো নির্বাচন। এক দলীয়ব্যবস্থার নির্বাচন ও প্রহসন সমার্থক শব্দ মাত্র। কিন্তু বহুদলীয় ব্যবস্থা ভোটপ্রদানের পছন্দক্রম থাকায় ভোটারদের প্রতি সরকারের সম্মানবোধ জন্মায়। এক্ষেত্রে ছোট-বড়, ধনী-গরিব, সবার মূল্যায়ন সমদৃষ্টিতে দেখা হয়। ফলে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন এক ধরনের সমাজব্যস্থা গড়ে ওঠে।মোটকথা হলো মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন। একদলীয় ব্যবস্থা যেখানে মানুষের এ স্বাধীনতাকে শৃঙ্খলিত করে রাখে সেখানে বহুদলীয় ব্যবস্থা মানুষের চিন্তা, বিবেক ও কর্মের স্বাধীনতার ডানাগুলোকে উন্মুক্ত করে দেয়। তাই শুধু বহুদলীয় ব্যবস্থাই আমার নিকট গ্রহণীয় নয়, এটা আমার জোর দাবি।