উদ্দীপকে প্রতীকধর্মী নেতৃত্ব, গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব, সম্মোহনী নেতৃত্বের এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের কথা বলা হয়েছে।নেতৃত্ব একটি বহুল পরিচিত ও আলোচিত শব্দ। নেতৃত্ব বলতে সাধারণত নেতার গুণকে বোঝায়। নেতৃত্ব হলো ব্যক্তি বা দলের সেই গুণাবলি যা দ্বারা গোষ্ঠী বা সমাজের জনসাধারণকে প্রভাবিত করে রাজনৈতিক বা সামাজিক উদ্দেশ্য সাধন করা যায়। বিভিন্ন তাত্ত্বিক বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে নেতৃত্বের শ্রেণিবিভাগ করেছেন। এগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সম্মোহনী নেতৃত্ব ও প্রতীকধর্মী নেতৃত্ব উল্লেখযোগ্য। যখন কোনো ব্যক্তি নিজের দলের সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও কর্মসূচি প্রচার করেন এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত করতে পারেন তাকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বলে। বর্তমানে এই নেতৃত্বের দ্বারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসীন হচ্ছে। গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বাধীনতার ওপর আস্থা স্থাপন করে। গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে একজনের নিয়ন্ত্রণে না থেকে অনেক মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে। গণতন্ত্রের চর্চা করে এমন দেশ যেমন ভারতে এই ধরনের নেতৃত্ব বিদ্যমান। নেতৃত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রূপ হচ্ছে সম্মোহনী নেতৃত্ব। কোনো বিশেষ নেতা যখন তার বক্তব্য ও কাজ দ্বারা জনগণকে ভীষণভাবে সম্মোহিত, অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হন, তখন সেই নেতৃত্বকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বা জাদুকরী নেতৃত্ব বলা হয়। ব্রিটিশ ভারতে মহাত্মা গান্ধী, বাংলাদেশের শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক প্রমুখের নেতৃত্বকে জাদুকরী নেতৃত্ব বলা হয়। নেতৃত্বের অন্য একটি ধরন হলো প্রতীকধর্মী নেতৃত্ব। যে নেতা তার দেশ ও জাতির প্রতীক হিসেবে নেতৃত্বদান করেন তাকে প্রতীকধর্মী নেতৃত্ব বলে। যেমন ব্রিটেনের রাজা বা রানি।উদ্দীপকে দেখা যায়, ইংল্যান্ডের রাজা উত্তরাধিকারসূত্রে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যা প্রতীকধর্মী নেতৃত্বকে নির্দেশ করে। আবার সেখানকার প্রধানমন্ত্রী জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন এটি হলো রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদাহরণ। অন্যদিকে, উল্লেখ আছে ভারত স্বাধীন হয় মহাত্মা গান্ধীর জাদুকরী নেতৃত্বে যা মূলত সম্মোহনী নেতৃত্বকে। বুঝিয়েছে। আবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতা চর্চা করেন যা মূলত গণতান্ত্রিক নেতৃত্বকে প্রতিনিধিত্ব করে।সুতরাং তাই বলা যায়, উদ্দীপকে প্রতীকধর্মী, রাজনৈতিক, সম্মোহনী ওগণতান্ত্রিক নেতৃত্বের কথা বলা হয়েছে।