জাতীয় স্বার্থরক্ষায় উদ্দীপকে আলোচিত মি. 'ক'-এর সংগঠনটির অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অপরিসীম। কেননা, জাতীয় স্বার্থ ও বিশেষ নীতির সমর্থনে সংগঠিত রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনই তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য থাকে।গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল হলো জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং রাষ্ট্রের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।একটি দেশ ও তার জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্য রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অপরিহার্য, রাজনৈতিক দলগুলো নানাভাবে জাতীয় স্বার্থরক্ষায় কাজ করে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, আলোচনা ও প্রচারণার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করে। তারা দেশের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে জনগণকে শিক্ষিত করে তোলে। এর ফলে জনগণ নিজেদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয় এবং জাতীয় স্বার্থের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে।প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নিজস্ব আদর্শ, নীতি ও কর্মসূচি থাকে। নির্বাচনের আগে তারা ইশতেহারের মাধ্যমে এসব নীতি জনগণের সামনে তুলে ধরে। ক্ষমতায় এসে তারা এই নীতিগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করে, যা জাতীয় উন্নয়নের জন্য সহায়ক হতে পারে। এক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকার যদি জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে তবে বিরোধী দল গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকার ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেয় এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। ফলে সরকার আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে বাধ্য হয়, যা দেশের জন্য মঙ্গলজনক। তাছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো সবাইকে এক ছাতার নিচে এনে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে। তারা সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য কাজ করার প্রেরণা জোগায়। বিভিন্ন জাতীয় সংকটে যেমন- যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। সুতরাং বলা যায়, রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশের শাসনভার গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচির মাধমে জাতীয় স্বার্থরক্ষা ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে।