উদ্দীপকে জাহিদ সাহেব ক রাজনৈতিক দলের একজন নেতা তিনি অত্যন্ত সৎ দক্ষ অভিজ্ঞ পরিশ্রমের দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে পরিচিত।জাহিদ সাহেবের গুণাবলীর আলোকে একজন যোগ্য নেতার প্রয়োজনীয় গুণাবলী নিম্ন আলোচনা করা হলো:
নেতৃত্ব হলো সামাজিক ও নৈতিক গুণ-বিশিষ্ট। নেতৃত্বের আবশ্যকীয় গুণাবলি নিম্নরূপ:
১.সৎ: নেতারসততার মধ্যে থাকতে হবে। সততা একজন নেতাকে আরব ব্যক্তিতের অধিকারী করে তেলে। সৎ থাকলে তিনি আরও বেশি সম্মানিত হবেন।
২.দক্ষতা: একজন নেতাকে বেশ দক্ষতার সঙ্গে সকম কাজ শেষ করার মনোভাব রাখতে হবে। দক্ষতা তাকে বিশেষ মানুষ হিসেবে সবার কাছে পরিচিত করবে।
৩. পরিশ্রমী: নেতাকে অত্যন্ত পরিশ্রম করার ইচ্ছা রাখতে হবে।
৪. ব্যক্তিত্ব: নেতাকে ব্যক্তিত্বের গুণে একক ও অনন্য ভাবমূর্তির অধিকারী হতে হয়। তাকে হতে হয় গাম্ভীর্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। চরিত্রের মাধুর্য, নমনীয়তা, তেজস্বিতা প্রভৃতি গুণ নেতাকে ব্যক্তিত্বের অধিকারী করে তোলে। ব্যক্তিত্বই একজন মানুষকে নেতৃত্বের পদে আসীন হতে সাহায্য করে। নেতাকে এজন্য আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে হয়।
৫. বুদ্ধিমত্তা: বুদ্ধিমত্তা নেতৃত্বের আবশ্যকীয় গুণ। নেতার বোধশক্তি হবে তীক্ষ্ণ। সমস্যা সমাধানে বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে নেতা জনগণের নিকট নিজেকে সম্মান ও শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত করেন। নির্বোধ বা বুদ্ধিহীন মানুষ ভালো নেতা হতে পারেন না।
৬. মানসিক ও দৈহিক সুস্থতা: নেতাকে সুস্থ দেহ-মনের অধিকারী হতে হয়। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী না হলে তার পক্ষে জটিল দায়িত্ব পালনের জন্য নিরলস পরিশ্রম করা সম্ভব নয়। সুস্থ মনের জন্যও চাই সুস্থ দেহ। কেননা সুস্থ দেহে সুস্থ মন বিরাজ করে। নেতা কতটা কর্মদক্ষ ও কষ্টসহিষ্ণু হবেন তা অনেকটা নির্ভর করে তার মানসিক ও দৈহিক সুস্থতার ওপর।
৭. অভিজ্ঞতা: নেতাকে অভিজ্ঞ হতে হয়। কেননা নেতার সাফল্য অসাফল্যের ওপর গোটা জাতি বা দেশের সাফল্য- অসাফল্য নির্ভর করে। যে নেতা যে বিষয়ে নেতৃত্ব প্রদান করেন তাকে সে বিষয়ে অভিজ্ঞতার অধিকারী হতে হয়।
৮.শিক্ষা: নেতা হবেন নিজস্ব বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা ও বিশেষ প্রজ্ঞার অধিকারী। অশিক্ষিত ব্যক্তি সাধারণত ভালো নেতা হন না। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ে, রাজনীতির তত্ত্বগত এবং প্রায়োগিক দিক সম্পর্কেও রাজনৈতিক নেতার পড়াশোনা থাকতে হবে। জ্ঞান আহরণের জন্য থাকবে নেতার গভীর আগ্রহ।
৯.দূরদৃষ্টি: জটিল সমস্যাসমূহের সমাধানের জন্য প্রয়োজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের। নেতাকে অতীতের আলোকে বর্তমানের মূল্যায়ন করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ করণীয় স্থির করতে হবে। দূরদর্শী নেতার অভাবে জাতি হয় বিভ্রান্ত। জাতীয় জীবনে নেমে আসে হতাশা।
১০. চারিত্রিক কঠোরতা ও কোমলতা নেতার চরিত্র হবে একদিকে কোমল, অপরদিকে প্রয়োজনবোধে কঠোর। চরিত্রের কোমলতা নেতাকে যেমন জনগণের ভালবাসা ও শ্রদ্ধাভক্তি অর্জনে সাহায্য করবে, তেমনি চরিত্রের কঠোরতা ও দৃঢ়তা নেতার প্রতি জনগণের আনুগত্য, শ্রদ্ধা, ভয় ও শৃঙ্খলাবোধকে জাগিয়ে তুলবে।