উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয় দুটি যথাক্রমে পৌরনীতি ও ইতিহাস।ইতিহাস হলো মানবজাতির সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের প্রতিচ্ছবি। এটি মানুষের অতীত ঘটনাবলির সুস্পষ্ট বিবরণ মানুষের সামনে তুলে ধরে। অন্যদিকে পৌরনীতি নাগরিকতা ও রাষ্ট্রীয় অতীত দিক সম্পর্কে আলোচনা করে। ফলে ইতিহাস ও পৌরনীতির সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।উদ্দীপকে পৌরনীতি ও ইতিহাস এ দুটি বিষয়ের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। এ দুটি বিষয়ের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। ইতিহাস পৌরনীতিকে তুলনামূলক আলোচনা করতে ও অতীত ঘটনাবলি সম্বন্দ্বে জানতে সাহায্য করে। পৌরনীতি রাষ্ট্রের উৎপত্তি, সরকারের বিভিন্নরূপ, আইনের স্বরূপ পর্যালোচনা, সমাজের বিবর্তন ও অতীত সরকার ও নাগরিকগণের কার্য সম্বন্দ্বে যখন তথ্য পরিবেশন করে, তখন ইতিহাসের সাহায্য গ্রহণ করতে হয়। একদিকে যেমন ইতিহাস পৌরনীতিকে সাহায্য করে, তেমনি পৌরনীতির সহযোগিতায় ইতিহাসও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। ইতিহাস রাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচিত না হলে তা মূল্যহীন হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রের উৎপত্তি ও বিবর্তন, সরকারের শ্রেণিবিন্যাস এবং ক্রমবিকাশ, জাতীয়তাবাদের বিকাশ, আইন ও অধিকারের প্রশ্ন, সার্বভৌমত্বের বিবর্তন সম্পর্কে পৌরনীতি যখন বিশ্লেষণ করে তখন ইতিহাসের সহায়তায় তা সম্ভব হয়। পৌরনীতি ও ইতিহাস শুধু এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ তাই নয়, উভয়ের অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণ পদ্ধতিও প্রায় অভিন্ন। অতীতের হাজারো তথ্য সহযোগে বর্তমানের জন্য তত্ত্ব রচনা এবং সে ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনুমান উভয় শাস্ত্রে অনুসরণ করা হয়।উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এটা প্রমাণিত হয়, পৌরনীতি ও ইতিহাসের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।