নিজেকে একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টি পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো নাগরিক। নাগরিকতার সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, দায়িত্ব, কর্তব্য ও নাগরিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে থাকে পৌরনীতি ও সুশাসন। এছাড়াও নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিক এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনাও করে থাকে এটি। সুনাগরিকের অন্যতম শর্ত হলো বুদ্ধি, বিবেক ও আত্ম সংযম। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিক জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে বুদ্ধি সম্পন্ন ও বিবেকবান নাগরিক সৃষ্টি করে। পৌরনীতির পরিধি ভুক্ত নাগরিকের কর্তব্য, আইন, স্বাধীনতা, সাম্য, মূল্যবোধ প্রভৃতি জ্ঞান পাঠককে আত্মসংযমী ও বিবেকবান করে তোলার ক্ষেত্রে অপরিহার্য। এসব জ্ঞান ব্যতীত নাগরিক তার ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক পলি মন্ডলের কাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে ব্যর্থ হয়, যা সুনাগরিকতার অন্তরায়।এ প্রসঙ্গে দার্শনিক অ্যারিস্টোটলের মন্তব্য হলো, " সকল ভালো মানুষ ভালো নাগরিক নয়, কিন্তু সকল ভালো নাগরিক ভালো মানুষ। " আর পৌরনীতি পরিধিভুক্ত বিবেক, বুদ্ধি, আত্ম সংযম অশৃঙ্খলাবোধ নাগরিক জীবন বিকাশের উত্তম দিকনির্দেশনা দেয়।সুনাগরকে অন্যতম গুন হল দেশপ্রেম ও মানবতাবোধ। পৌরনীতির জ্ঞান মানুষের মাঝে দেশপ্রেম ও মানবতাবোধ জাগ্রত করে। সর্বোপরি পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিধিভুক্ত বিষয়গুলো পাঠের মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে জীবনের সর্বস্তরে ও বিভিন্ন পর্যায় সুর নাগরিকতার গুণ বিকাশিত হয়। উপরিউক্ত আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, নিজেকে একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টি পাঠের বিকল্প নেই।