শুধুমাত্র উদ্দীপকে বর্ণিত পরামর্শ মানলেই 'ক' রাষ্ট্রটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। আমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি নিচে তুলে ধরা হলো - উদ্দীপকে জাতিসংঘ সৃষ্টির সমস্যা মোকাবেলায় সরকারি কাজে দক্ষতা আনয়ন, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলার পরামর্শ দেয় যা সুশাসন একটি অংশকে নির্দেশ করে। কিন্তু শুধুমাত্র এই কাজগুলোর দ্বারাই রাষ্ট্রটি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। সুশাসনের ধারণা বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগে রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি উত্তম ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা, রাষ্ট্র জনগণের মধ্যে সম্পর্কে ধারণ সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। মূলত সুশাসন হলো কোন রাষ্ট্রীয় কার্যাবলী পরিচালনার পদ্ধতি। এ ধারণার মাধ্যমে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সম্পর্কের সড়ক বিশ্লেষণ করা যায়। এছাড়া জাতীয় রাজনীতির ধারা ও আইনের স্বরূপ সুশাসনের মাধ্যমিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এছাড়াও রাষ্ট্রটিকে মানবসম্পদে উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। উপযুক্ত শিক্ষার বিস্তার, প্রয়োজনীয় সংস্কার সাপেক্ষে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের দক্ষতা বৃদ্ধি করা,দক্ষ, উপযুক্ত ও কার্যকর আমলাতন্ত্র গড়ে তোলা, দুর্নীতি দমন করা, অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সহ নানাবি কল্যাণকর পদক্ষেপ নিতে পারে রাষ্ট্রটি। এসব সুশাসনের অপরিহার্য অংশ। উদ্দীপাকে বর্ণিত পরামর্শ মানলেই 'ক' রাষ্ট্রটি তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেনা। বরং এগুলোর পাশাপাশি সুশাসনের বাকি সকল অপরিহার্য অংশগুলো কেউ প্রয়োগ করতে হবে। তবে সম্ভব একটি সুন্দর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।