দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একজন নাগরিক প্রয়োজনে জীবন দান করতেও কুন্ঠিত হয় না। এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত পোষণ করছি। কারণ এর বক্তব্যের মাধ্যমে দেশ প্রেমের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। দেশপ্রেম বলতে বোঝায় দেশের কল্যাণে যিনি স্বপ্রাণোদিত ও স্বেচ্ছায় নিজেকে উৎসর্গ করতে পারে। মূলত দেশপ্রেম হচ্ছে নিজের দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা, এর দ্বারা পরিচিত এবং এর কল্যাণের জন্য বিশেষ ভাবনা। দেশপ্রেমের মাধ্যমে দেশের জনগণ দেশকে ভালবাসতে শেখে এবং দেশের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে পিছপা হয় না। উদ্দীপকের যাহরা শেষাক্ত বক্তব্যে দেশপ্রেমের প্রকৃতি প্রকাশ পেয়েছে। দেশপ্রেমে এমন এক অনুভূতি যার জন্য দেশপ্রেমিক নাগরিক যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকে। কারণ, দেশের মাটি ও মানুষকে একাত্ম করে ভাবার অনুভূতি হলো দেশপ্রেম। আর দেশপ্রেমের এই ধারণা বা অনুভূতি থেকে জন্ম নেয় জাতীয়তাবোধ। যেমন - ১৯৫২ সালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতীয়তায় ছিল আমাদের সকল সংগ্রামের প্রেরণাশক্তি।৬৯- এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে অনেক লোকপ্রান দিয়েছেন। আজকে আমাদের প্রিয় এই মাতৃভূমি জাতীয়তাবাদী চেতনারই ফসল। যুগে যুগে জাতীয়তাবাদী চেতনারা তাদের সুযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে জাতিরাষ্ট্র সৃষ্টি করেছেন। আবার কেউ কেউ নিজ নিজ রাষ্ট্রকে গতিশীল নেতৃত্ব প্রদান করে বিশ্ব দরবারে সুমহান মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যেমন - নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহাত্মা গান্ধী, দেশবন্ধু চিরঞ্জন দাস প্রমুখ। পাশাপাশি জাতীয়তার চেতনা ও দেশপ্রেমের জন্যই ইতালির গ্যারিবল্ডি,আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, রাশিয়ার লেনিন, বাংলাদেশের বাংলাদেশের শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ রচনা করেছেন দেশপ্রেমের অমর গাঁথা। সুতরাং আলোচনা শেষে বলা যায়, দেশ প্রেমের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি যে অকৃত্রিম ভালোবাসা তার নাম হলো দেশপ্রেম। এই দেশপ্রেমে বললেন যে কোন নাগরিক দেশের ক্লান্তিকালে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে দেশের জন্য কাজ করে। দেশের স্বার্থের কাছে তার নিজ জীবন হয়ে ওঠে তুচ্ছ।