আমি মনে করি, শুধু উদ্দীপকের আলোচিত বিষয় গুলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার সহায়ক নয়। এর বাইরেও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আরও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। বর্তমান বিশ্বের রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রচলিত শাসন ব্যবস্থার মধ্যে গণতন্ত্র গ্রহণ যোগ্যতা সর্বাধিক। আরে শাসনকে সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য সর্বাধিক জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হলো সুশাসন। সুশাসনের ফলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। সরকারের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ, কাজের দীর্ঘসূত্রতা, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র চর্চার অভাব ইত্যাদি দূরীকরণ কেবল সুশাসনের মাধ্যমেই সম্ভব। উদ্দীপকে উল্লেখিত সুশাসনের বিষয়গুলো ছাড়াও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সংহতি, গণমানুষের ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা,আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস, নাগরিক সেবা বৃদ্ধি, গণমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রভৃতি। সামাজিক সমতা, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় সুশাসন কাজ করে। মূলত গণতন্ত্র ক্লাসের সর্বাধিক উন্নয়নে সুশাসনের ভূমিকা অপরিসীম। উপরিক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে সুশাসন অপরিহার্য। কিন্তু উদ্দীপকের ছকে এর সকল শর্ত লক্ষ্য করা যায় না। তাই বলা যায়, উপরিক্ত শর্ত ছাড়াও আরো অনেকগুলো শর্ত রয়েছে, যেগুলো বাস্তবায়নের রাষ্ট্রের সুশাসন নিশ্চিত হবে।