উদ্দীপকে পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।আর পৌরনীতির উৎপত্তি ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্রকেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে এ শাস্ত্রের উদ্ভব। সেই সময়ে পৌরনীতির ক্ষেত্র ছিল মূলত নগর রাষ্ট্রের বসবাসকারী নাগরিক সম্পর্কিত আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে নাগরিকতার ধরণ,বিস্তার ও মাত্রা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, সুনাগরিকতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে। নাগরিকের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, যেমন - ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ইত্যাদি গঠন কার্যাবলী ও ভূমিকা পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। জাতীয় গৌরবময় ইতিহাস, আন্দোলন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও জ্ঞান দান করে পৌরনীতি। বর্তমানকালে বৈশ্বিক বিস্তৃতি নাগরিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠান যেমন- জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, সার্ক ইত্যাদি গঠন ও কার্যাবলী নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে থাকে। একই সাথে অতীতে নাগরিক জীবনে কেমন ছিল, রাস্তার দায়-দায়িত্ব কেমন ছিল, নাগরিকগণ কেমন সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারতো তার স্বরূপ নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে। আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, পৌরনীতির উৎপত্তি হয়েছিল প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্রের জীবন ব্যবস্থার চিত্র বর্ণনা করার জন্য। সে থেকে পৌরনীতির ক্রমবিকাশ হয়ে বর্তমান আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য জ্ঞানভান্ডার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নাগরিক জীবনের অতীত, বর্তমান কিংবা ভবিষ্যৎ সবকিছুই পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিধির অন্তর্ভুক্ত। তাই অতীত আর বর্তমানের মধ্যে সেতুবন্ধন সৃষ্টিতে পৌরনীতি ও সুশাসনের ক্রমবিকাশ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা অত্যাবশ্যক।