উন্নয়নশীল দেশসমূহে উক্ত দেশের শাসনব্যবস্থা তথা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের বহুবিধ করনীয় রয়েছে। উন্নয়নশীল দেশসমূহ নানা রকম সমস্যার মধ্যে টিকে থাকে। কিন্তু দেশটি ক্রমোন্নতির দিকে ধাবমান বিধায় এরূপ দেশ সমূহে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে জনগণের বা নাগরিকের সম্পৃক্ততা একান্ত জরুরী। কেননা নাগরিক বা জনগণ সচেতন হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধকতা সহজেই অতিক্রম করা যাবে। উদ্দীপকের দেশটিতে সুশাসন বিদ্যমান। উন্নয়নশীল দেশসমূহে এরূপ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিকের করণীয় রয়েছে। কেননা সরকারের একার পক্ষে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের পাশাপাশি নাগরিকেরও দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা এবং তা বজায় রাখা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান গঠন এবং পরিচালনা করা, সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন এবং তাদের অংশগ্রহণ করা,কুসংস্কার মুক্ত, উদার ও সংস্কৃতিবান গড়ে তোলা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা নাগরিকের সামাজিক দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব নির্ভুলভাবে পালনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তিভূমি। মানুষ একই সাথে সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব। এজন্য রাষ্ট্রের প্রতি তার কিছু রাজনৈতিক কর্তব্যও রয়েছে। এগুলো হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য প্রদর্শন, রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলা, সততার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করা, প্রয়োজনের লাস্টের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসা,কেউ যেন ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট না করে সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করা ইত্যাদি। রাষ্ট্রীয় সমৃদ্ধি অর্জনে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকগণ কেউ সচেষ্ট হতে হবে এবং রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করতে হবে।