একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তথ্যপ্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আমি মনে করি।সুশাসন বলতে সেই শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় সেখানে সরকার হবে দক্ষ, কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক। বর্তমান বিশ্বে অনেক রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই তথ্যপ্রযুক্তিকে দেখা হচ্ছে সুশাসন নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে। কেননা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণকে উন্নতর সরকারি সেবাসমূহ খুব দ্রুত ও কম সময়ে পৌঁছে দেওয়া যায়। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের দ্রুত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবস্থায় বাণিজ্য ও নাগরিক সেবা সম্পর্কিত সেবা এবং তথ্য সরবরাহ করে দুর্ভোগ হ্রাস করতে সক্ষম হচ্ছে। এভাবে সরকারি সেবার মান উন্নয়ন করে সুশাসন নিশ্চিত করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। সরকারি কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘরে বসেই সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ড, সেবা তথা অদের প্রাপ্য দুর্যোগ সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারে। এর ফলে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং অধিকতর দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, যা সুশাসন বাস্তবায়নে সাহায্য করে। সুশাসনের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো জনগণের অংশগ্রহণ। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাগরিকগণ এখন ঘরে বসেই সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে পারছে। এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার জনগণের তথ্য প্রাপ্তিকে সহজ করে তুলছে। তথ্যের এই অবাধ প্রবাহ সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম অন্তরায় হলো দুর্নীতি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিক সেবাসমূহ প্রদান করায় দুর্নীতির সুযোগ কমে যায় এবং স্বজনপ্রীতির সুযোগ বন্ধ হয়। আর এসব প্রশাসনিক কাজে স্বজনপ্রীতি বন্ধ ও দুর্নীতি হ্রাসের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তথ্যপ্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।