উদ্দীপকে দ্বিতীয় প্রসঙ্গে যে বিষয়ের বৈশিষ্ট্যের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে তা হলো সুশাসন। উদ্দীপকে সুশাসনের সকল বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠেনি।উদ্দীপকে আইনের শাসন, সরকারের নীতির বৈধতা নিশ্চিত এবং বিচার বিভাগের ভূমিকার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে, যা সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এছাড়াও সুশাসনের আরও কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেমন- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম, দক্ষতা ইত্যাদি বিষয় উদ্দীপকে ফুটে ওঠেনি।সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো স্বচ্ছতা। স্বচ্ছতার অর্থ হলো পরিষ্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল। সরকারি কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত এক নীতিমালার ব্যাপারে জনগণের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য প্রদান করাই হচ্ছে স্বচ্ছতা।স্বচ্ছতা সুশাসনের ভিত্তি যা দুর্নীতির সুযোগ হ্রাস করে। জবাবদিহিতা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতি হ্রাস পায় এবং শাসনের ক্ষেত্রে গতি ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। সুশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বা বৈশিষ্ট্য হলো অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া। অংশগ্রহণ এর অর্থ হলো রাজনৈতিক ও শাসন কাজে জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ, নীতি প্রণয়নে নাগরিকের। সম্পৃক্ততা এবং তা বাস্তবায়নে জনগণকে সম্পৃক্ত করা। রাষ্ট্রীয় কাজে জনগণের অংশগ্রহণ সুশাসনকে গতিশীলতা দান করে। দক্ষতা হলো সুশাসনের একটি মৌলিক উপাদান। এর অর্থ হলো প্রাপ্ত সম্পদের ও উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জন করা। দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এছাড়া স্বাধীন গণমাধ্যম, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দায়িত্বশীলতা, নৈতিক মূল্যবোধ, সততা সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ও বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিচিত। এসবের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সুশাসন প্রত্যয়টি পরিপূর্ণ রূপ লাভ করেউদ্দীপকে সুশাসনের যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে তা সুশাসনের সকল বৈশিষ্ট্যের প্রতিনিধিত্ব করে না। কেননা আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ ও সরকারে নীতির বৈধতা ছাড়া সুশাসনের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যেমন- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, জনগণের অংশগ্রহণ, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি এসব বিষয় উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়নি। তাই বলা যায়, সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আইনের শাসন তুলে ধরা হলেও এর সব বৈশিষ্ট্য উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি।