"উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যবস্থা রাজনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে"-বক্তব্যটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।রাজনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব সর্বাধিক। সুশাসন একটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে ফলে রাজনৈতিক উন্নয়ন ঘটে। একটি সুস্থ প্রগতিশীল উন্নত রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা একান্ত প্রয়োজন। সুশাসন সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। আইনের শাসন ব্যতীত রাজনৈতিক উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। সুশাসন আইন সবার জন্য সমভাবে কার্যকর করে আইনের শাসন নিশ্চিত করে। ফলে রাজা ও প্রজা এক কাতারে শামিল হয়।রাজনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক সরকারে জনগণের অংশগ্রহণ। সুশাসন সরকার পরিচালনায় জনগণকে সম্পৃক্ত করে গণতন্ত্রকে টেকসই পর্যায় উন্নতি করে। সুশাসনের ফলে শাসনকার্যে সরকারের অংশগ্রহণ যত অধিক হয়, সরকার ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব ততই কমে আসে। জনগণ সরকারকে তাদের একটা অংশ মনে করে এবং সরকারের প্রতি নাগরিকদের বিদ্বেষ ও ক্ষোভ দূরীভূত হয়। সরকার ও জনগণের যৌথ উদ্যোগে বিনির্মাণ হয় একটি উন্নত রাজনৈতিক সমাজ। রাজনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজন উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি। সুশাসন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সুদৃঢ়করণের মাধ্যমে টেকসই রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। রাজনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো সরকার, বিরোধী দল ও জনগণের রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা। সুশাসন এ সহিষ্ণুতা শিক্ষা দিয়ে সরকার ও বিরোধী দলকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্দীপ্ত করে। ফলে ধর্মঘট, জ্বালাও-পোড়াও, হামলা-মামলা রাজনীতি থেকে নির্বাসিত হয়। সুশাসন সরকারকে বিরোধী দলের মতামতের প্রতি সহিষ্ণু হতে উৎসাহিত করে এবং বিরোধী দলকে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা ও সরকারকে সহযোগিতা করার শিক্ষা দিয়ে থাকে। ফলে সরকার ও বিরোধী দলসমূহের মধ্যে সুসম্পর্ক বিরাজ করে। এরূপ সম্পর্ক নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ার ফল।পরিশেষে বলা যায়, রাজনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য সুশাসনের কোনো বিকল্প নেই।