হ্যাঁ, আমি মনে করি, সরকারের কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য উক্ত বিষয়ের তথা পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের জ্ঞান থাকা জরুরি।
নাগরিক মর্যাদাসম্পন্ন ও সচেতন জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের সম্পদ। জনসংখ্যাকে উত্তম ও সচেতন নাগরিক গোষ্ঠীতে পরিণত করার ক্ষেত্রে পৌরনীতি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সুনাগরিকতার শিক্ষা যেকোনো নাগরিকই পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে লাভ করে থাকে। বিবেক, বুদ্ধি, আত্মসংযম ও শৃঙ্খলাবোধসম্পন্ন নাগরিক জীবনের বিকাশের জন্য পৌরনীতি উত্তম দিকনির্দেশনা প্রদান করে থাকে। একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য শুধু ভালো মানুষের চেয়ে বরং ভালো নাগরিকের প্রয়োজন অত্যধিক। এ প্রসঙ্গে এরিস্টটল বলেন, "সকল ভালো মানুষ ভালো নাগরিক নয়, কিন্তু সকল ভালো নাগরিকই ভালো মানুষ।" মূলত পৌরনীতির জ্ঞান মানুষকে অধিকার সচেতন করে তোলে। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য পালনের মাধ্যমে অধিকার ভোগের শিক্ষাদান করে। এ বিষয়টি শিক্ষা লাভকরেই নাগরিক নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকারি কর্তৃপক্ষ ও জনসম্মুখে তাদের নায্য দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে ও আদায় করতে সক্ষম হয়। বস্তুত সরকারের কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য পৌরনীতি ও সুশাসন সম্পর্কে জ্ঞান অপরিহার্য, কারণ এটি সরকারি নীতি, সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার গুণগত মান নির্ধারণে সহায়তা করে। পৌরনীতি স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে ধারণা দেয়, যা সরকারের কার্যক্রমের প্রভাব ও দক্ষতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। সুশাসনের নীতিগুলো যেমন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাপনা, সরকারি কার্যক্রমের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করে। এই জ্ঞান থাকলে জনগণ সরকারের সিদ্ধান্ত ও নীতির সমালোচনা বা সমর্থন করতে পারে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে এবং উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে।