উদ্দীপকের 'ক' দেশটিতে সুশাসনের ব্যাপক অভাব পরিলক্ষিত হয়, যেখানে 'খ' দেশে সুশাসন বিদ্যমান। স্বাভাবিকভাবেই দুটি দেশের শাসনব্যবস্থায় দুই রকম চিত্র প্রকাশ পাবে।
শাসন প্রক্রিয়ার সুশৃঙ্খল ও কাঠামোবদ্ধ একটি রূপ হলো সুশাসন। এখানে সুস্পষ্টভাবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য, রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পর্ক, জনগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য, নেতা-জনতা ও রাষ্ট্রের আত্মসম্পর্ক, প্রশাসন, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণসহ স্থান পায়। শাসন ব্যবস্থায় প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সকল সমস্যার সমাধান করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দায়িত্বশীলতা কার্যকর ও সফলতা লাভ করে সুশাসনের মাধ্যমে। সুশাসন জনগণের মৌলিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করাসহ গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ সুফল বয়ে আনতে সহায়তা করে। সুশাসনের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব হয়।
উদ্দীপকের 'ক' দেশটিতে সুশাসনের অভাবের ফলে সেখানে প্রশাসনিক দুর্বলতা, স্বচ্ছতার অভাব, দুর্নীতি এবং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ব্যাপকভাবে দেখা যায়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনের শাসনের অনুপস্থিতি এবং ন্যায়বিচারের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা সমাজে বৈষম্য ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে সেখানে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে, 'খ' দেশে সুশাসনের উপস্থিতি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করে তুলতে সাহায্য করবে। যেখানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং দুর্নীতি দমনের জন্য শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হবে। ফলে নাগরিকরা সমান সুযোগ ও ন্যায়বিচার পেয়ে যাবে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। সুশাসনের অনুপস্থিতির কারণে যেখানে 'ক' দেশটি রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক সংকটের শিকার হবে, সেখানে 'খ' দেশটি উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সামাজিক কল্যাণের পথে এগিয়ে যাবে।
সুতরাং আলোচনা শেষে বলা যায়, সুশাসন একটি রাষ্ট্রের সকল উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার সূচকস্বরূপ। স্বাভাবিকভাবেই তাই উদ্দীপকের দেশ দুটির শাসন কৌশল বিপরীতধর্মী।