উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি অর্থাৎ, নাগরিক হিসেবে আইন মান্য করা ও অপকর্ম থেকে বিরত থাকা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমি এর সাথে একমত নই যে, এটিই সুশাসন প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায়।সুশাসন একটি বহুমাত্রিক ধারণা এবং এর জন্য আরও অনেক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার কীভাবে কাজ করছে, তা জনগণের জানার অধিকার থাকা উচিত এবং সরকারের প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকা উচিত। শুধু নাগরিক সচেতন হলেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, যদি সরকার স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক না হয়। দ্বিতীয়ত, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। বিচার বিভাগকে কোনো প্রকার প্রভাব বা চাপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। তৃতীয়ত, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। গণমাধ্যম সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেবে এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেবে। চতুর্থত, কোনো দেশের যাবতীয় কার্যাবলি শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পাদন করা সম্ভব নয়। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব স্থানীয় পর্যায়ে প্রত্যর্পণ করা জরুরি। পঞ্চমত, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শাসন কাজের সকলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণ করা জরুরি। এছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকার রক্ষা করতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকতে হবে।পরিশেষে বলা যায়, নাগরিক হিসেবে আইন মান্য করা ও অপকর্ম থেকে বিরত থাকা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য, তবে এটিই একমাত্র উপায় নয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, কার্যকর সংসদ, স্বাধীন গণমাধ্যম, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, মানবাধিকার রক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নাগরিক সমাজের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। তাই বলা যায়, সুশাসনের জন্য একটি সমন্বিত এবং সামগ্রিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।