উদ্দীপকে প্রতিফলিত বিষয়টি হলো পৌরনীতি ও সুশাসন। এটি পাঠের প্রয়োজনীয়তা অত্যধিক।পৌরনীতি হলো নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। নাগরিকের সর্বাধিক কল্যাণ সাধন করাই এর মূল উদ্দেশ্য। পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান মানুষকে নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি তার অধিকার ও কর্তব্য এবং রাষ্ট্রের কাছ থেকে তার প্রাপ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে।এছাড়া পৌরনীতি পাঠ মানুষের গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস, সংকীর্ণতা প্রভৃতি দূর করে দৃষ্টিভঙ্গি উদার ও প্রসারিত করে। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিক জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে বুদ্ধিসম্পন্ন, বিবেকবান. ও আত্মসংযমী নাগরিক সৃষ্টি করে। পৌরনীতির আওতাভুক্ত নাগরিকের কর্তব্য, আইন, স্বাধীনতা, সাম্য, মূল্যবোধ প্রভৃতির জ্ঞান পাঠককে আত্মসংযমী ও বিবেকবান করে তোলার ক্ষেত্রে অপরিহার্য। এসব জ্ঞান নাগরিক তার ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে কাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে সমর্থ হয়। তাছাড়া পৌরনীতির জ্ঞান মানুষের মাঝে দেশপ্রেম ও মানবতাবোধ জাগ্রত করে। পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে একজন নাগরিক খুব সহজেই দেশের চলমান রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারে। সরকার ও রাষ্ট্রের সাথে একজন 'নাগরিকের সম্পর্ক কী হওয়া উচিত, সামাজিক ও জাতীয় সংকটের সময় একজন নাগরিক কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে এবং কোন পরিস্থিতিতে কোন ধরনের সরকারব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, এ বিষয়গুলো পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে জানা যায়।তাই উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, নিজেকে একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টি পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।