উদ্দীপকের বিষয় সমূহ সুশাসনের সাথে জড়িত উদ্দীপকের বর্ণিত বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো স্বচ্ছতা আইনের শাসন জবাবদিহিতা দক্ষতা দায়িত্বশীলতা এবং অংশগ্রহণমূলক।
যে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বৈধ গণতান্ত্রিক আইনের শাসন ব্যবস্থায় সততা ও দক্ষতার সাথে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনগণের সার্বিক কল্যাণ, বিশেষত মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত হয় তাকে সুশাসন বলে।
১.অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া :অংশগ্রহণ বলতে রাষ্ট্র শাসন ব্যবস্থা নিতে নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নের জনগণের মধ্যে দায়িত্ব বন্টন কে বোঝায়।
২.স্বচ্ছতা :স্বচ্ছতার অর্থ পরিষ্কার স্পষ্ট দ্বৈত অর্থ বোদ্ধতার অনুপস্থিতি হলো সস্তা
৩.দায়িত্বশীলতা :সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো দায়িত্বশীল ওদের অর্থ হলো সরকার ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া কর্মকান্ডের দায়িত্বশীলতা।
৪.আইনের শাসন :সুশাসন তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় যখন আইনের শাসন বিদ্যমান থাকে আইনের শাসনের মূল কথাই হলো আইনের দৃষ্টিতে সকলের সমান।
৫.জবাবদিহিতা: সরকারের সকল কর্মকান্ড আবার তথ্য প্রবাহের মাধ্যমে জনগণকে জানানো জবাবদিহিতা। ৬.দক্ষতা কোন কাজ শুনে কোনভাবে সম্পন্ন করার ক্ষমতাকে দক্ষতা বলে।
অন্যান্য বৈশিষ্ট্যসমুহ :
১.স্বাধীন বিচার বিভাগ :: বিচারকগণ যদি সৎ, দক্ষ, নিরপেক্ষ ও উচ্চ নৈতিক গুণাবলির অধিকারী হন; ভয়ভীতি বা প্রলোভনের কাছে নিতি স্বীকার না করেন সুতায়ণে ন্যায়বিচারা প্রতিষ্ঠিত হয়। বিচার বিভাগ অইবেবির অধিকারী হন; ভয়ভীতি বা প্রলোভনের কাছে পালন করতে পারে। সুতরাং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সুশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বলা চলে।
২.সততা: সুশাসন তখনই প্রতিষ্ঠিত হয়, যখন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেই সৎ হন এটাই কাম্য। আইন এবং নৈতিকতা যথাযথ ভাবে মেনে কাজ করাই হল সততা।
৩. লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি : সুপ্রশাসনে লিঙ্গ বৈষম্য করা হয় না। মারী-পুরুষ নির্বিশেষে যোগ্য ব্যক্তিই প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োগ পান এবং সততা, দক্ষতা ও যোগ্যতার জন্য পুরস্কৃত হন বা পদোন্নতি পান।
৪.বিকেন্দ্রীকরণ): সুপ্রশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।কেন্দ্রীকরণ হচ্ছে ক্ষমতার বণ্টন ও বিভক্তিকরণের নীতি। এর অর্থ হলো ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে প্রশাসনের উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরে ছড়িয়ে দেয়া। বিকেন্দ্রীকরণের ফলে জনগণের অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে জনসচেতনতাও বৃদ্ধি হলেও পায়, প্রশাসনের মূল্যবান সময় বেঁচে যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
৫.শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা: শক্তিশালী, মর্যাদাসম্পন্ন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ আদি ভূমিকা পালন করে। স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হলে স্থানীয়ভাবে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উন্নয়ন করা যায়। এর ফলে প্রশাসনে কিং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায় এবং দক্ষ নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে।
৬.সুশীল সমাজ : সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সুশীল সমাজের ভূমিকাকে বর্তমানে খুবই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। সুশীল সমাজ নিরপেক্ষ ও নিরাসক্ত দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যা চিহ্নিত করা এবং তার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন। সুশীল সমাজের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিগণ প্রেস, রেডিও, টিভি মাধ্যম, বিভিন্ন সামাজিক, আর্থিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে বা মুখপাত্র হিসেবে যে বক্তব্য প্রকাশ করে থাকেন তা' সুষ্ঠু জনমত সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৭.জন গ্রহণযোগ্যতা : সুপ্রশাসন তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় যখন তা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সক্ষম হয় বা সচেষ্ট হয়। জনগণের জন্য গ্রহণযোগ্য নয় এমন কোনো শাসনকে তাই সুশাসন বলা যায় না।
৮.পেশাদারিত্ব :সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হলে প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরপেশাদারী দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য তাদের প্রচুর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি পেলেন প্রশাসনের দক্ষতাবৃদ্ধি পায়।
৯. মর্যাদা ও বিশ্বাস অর্জন: প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজকর্ম, দক্ষতা ও যোগ্যতা দ্বারা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এবং জনগণের নিকট নিজেদেরকে মর্যাদাসম্পন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হবে।
১০. প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা : প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকলে সুষ্ঠু জনমত গড়ে ওঠে না। ব্যক্তি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে সফল করতে হলে, সুশাসনের পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে তাই প্রচার মাধ্যম হবে স্বাধীন ও এর সরকারের অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত।
১১.মুক্ত এবং বহুত্বভিত্তিক সমাজ : সমাজের গঠন কাঠামো যদি স্বাধীন ও মুক্ত হয় এবং এর প্রকৃতি যদি বহুত্বভিত্তিক হয় তাহলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হয়। কৃত্রিমভাবে সমাজ নির্মাণ বা সমাজ ন কাঠামোতে কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়া সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করে।