উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয় সুশাসন তথা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখে।
সুশাসনের ফলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। সরকারের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকেন। ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ, কাজের দীর্ঘসূত্রিতা, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র চর্চার অভাব ইত্যাদি দূরীকরণ কেবল সুশাসনের মাধ্যমেই সম্ভব। এছাড়াও সুশাসনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। সামাজিক সমতা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় সুশাসন কাজ করে। সুশাসন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম পথ প্রদর্শক । এক্ষেত্রে সুশাসনের জন্য প্রয়োজন জনমতের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জনমত মুখ্য ভূমিকা পালন করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে সুশাসনের ভূমিকা অপরিসীম।
উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থায় মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি খুবই গুরুত্বরোপ করা হয়। রাষ্ট্রটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা খুবই স্বচ্ছ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সংহতি, গণমানুষের ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, নাগরিক সেবা বৃদ্ধি, গণমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, সিটিজেন চার্টার প্রণয়ন, জনপ্রশাসনের ভূমিকা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রভৃতি। কোনো দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে উপরের বিষয়গুলোও নিশ্চিত হয়।
উপরের আলোচনার মাধ্যমে সুশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বের দিক সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়, যেগুলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করে।