উদ্দীপকে আলোচিত রাষ্ট্রসমূহে সুশাসনের অভাবজনিত সমস্যা রয়েছে। রাষ্ট্রে সুশাসন না থাকার ফলে যেসব সমস্যার সৃষ্টি হয়, তাদেরকেই সুশাসনের অভাবজনিত সমস্যা হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। উদ্দীপকে দেখা যায় যে, পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে যথেষ্ট প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদ থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে শাসকগোষ্ঠীর একগুঁয়েমি, জবাবদিহিতার অভাব ও দুর্নীতি ইত্যাদি কারণে সেখানে জনগণের স্বার্থ 'উপেক্ষিত হচ্ছে। সেসব রাষ্ট্রে সুশাসনের অভাব রয়েছে। যার কারণে জনগণ তাদের স্বার্থ থেকে বঞ্চিত। উদ্দীপকে আলোচ্য রাষ্ট্রগুলোর শাসকগোষ্ঠী একগুঁয়ে স্বভাবের। ফলে তারা যা ইচ্ছা তাই করে থাকে। রাষ্ট্রের জনগণকে তা মেনে নিতে হয়। তাছাড়া শাসকগোষ্ঠীর জবাবদিহিতার অভাব থাকার কারণে তারা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারীরূপে আবির্ভাব হতে পারে। তারা জনগণের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা না করেই বিভিন্ন ধরনের কার্যাবলি গ্রহণ করতে পারে। আর জবাবদিহিতা না থাকায় তারা তাদের কার্যাবলিতে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি প্রভৃতির আশ্রয় লাভ করতে পারে। ব্যক্তিস্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি। যে কর্মকাণ্ড সাধারণভাবে, বিবেকের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় তাকেই দুর্নীতি বলা হয়। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামাজিক ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি খাটিয়ে অবৈধ সুযোগ নেওয়া, কারও সম্পত্তি দখল করা, জনগণের অধিকার ভোগে বিঘ্ন সৃষ্টি- এসবই দুর্নীতির অন্তর্ভুক্ত। এসব কাজ জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি। এগুলো সুশাসনেরও পরিপন্থি। তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে এসব সমস্যা নির্মূল হয়ে থাকে। তাই শাসকগোষ্ঠীর একগুঁয়েমি, জবাবদিহিতার অভাব ও দুর্নীতি প্রভৃতি সুশাসনের অনুপস্থিতিকে স্বীকার করে এবং এর প্রতিষ্ঠাকে আরও বিলম্বিত করে।সুতরাং, উদ্দীপকে আলোচ্য রাষ্ট্রসমূহে সুশাসনের অভাবজনিত সমস্যা প্রতিফলিত হয়েছে।