সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকারের ভূমিকাই মুখ্য। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রের কাছে কাঙ্ক্ষিত একটি বিষয়। কিন্তু সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে গেলে প্রয়োজন রাষ্ট্রে স্বচ্ছতা, বৈধতা, - জবাবদিহিতা ও বিকেন্দ্রীকরণের মতো বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠা করা। যেটি করতে গেলে সরকারকে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে।
সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা অলীক কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়। টেকসই নেতৃত্ব ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা ছাড়াও দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে আরও অনেক উদ্যোগ নিতে হবে। সুশাসনে সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে বিচার বিভাগের আইনগত কাঠামোকে সুদৃঢ় করে যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি মজবুত করে। তাছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি, জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্ক, দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা অতীব জরুরি। অন্যথায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। মনে রাখতে হবে যে, সুশাসন মানব উন্নয়নের লক্ষ্যে এমন এক ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে আইনের শাসন, নাগরিক মতামতের স্বাধীনতা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং সর্বস্তরে জীবনমুখী, বাস্তবভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবায়ন ঘটে। ফলে রাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থা অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়। রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণপূর্বক দায়িত্বশীল সরকার জনকল্যাণ নিশ্চিত করে। অতএব, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে এসব উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।