গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।সাধারণত সদ্য স্বাধীন, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব লক্ষ করা যায়। ফলে নির্বাচিত সরকারের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিরোধী দলগুলো সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করে। এর ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয় এবং আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা বিরাজ করে। এই ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধক। এছাড়া অনুন্নত ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহে জবাবদিহিতার অভাব লক্ষ করা যায়। এখানে সরকারের শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট জবাবদিহি করে না।সেইসাথে প্রশাসন কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার প্রাধান্য, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাব, আমলাদের কাজে অবাঞ্ছিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, রাজনীতিকরণ ইত্যাদি কারণে আমলারা ক্রমশ অযোগ্য ও অদক্ষ হয়ে পড়ে। ফলে সুশাসন বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে ন্যায়পরায়ণ আচরণ, নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ এবং নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকা জরুরি। কিন্তু অনেক রাষ্ট্রেই এরূপ অবস্থা বিদ্যমান নেই। উল্লিখিত এ সমস্ত প্রতিবন্ধকতা ছাড়াও নিয়োগ, বদলি, পদায়ন,সুযোগ-সুবিধা বণ্টন, সম্মান-পদবি-খেতাব প্রদান প্রভৃতি সকল ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন সরকার বা গোষ্ঠী স্বজনপ্রীতির আশ্রয় গ্রহণ করে। ফলে যোগ্য, দক্ষ ও মেধাবী ব্যক্তিদের সেবা ও সহযোগিতা থেকে রাষ্ট্র তথা প্রশাসন বঞ্চিত হয়। এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া অকার্যকর জাতীয় সংসদ, দারিদ্রদ্র্য, ক্ষমতার ভারসাম্যের অভাব, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অভাব প্রভৃতি কারণেও একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ব্যাহত হয়।পরিশেষে বলা যায়, বিভিন্ন কারণে কোনো দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে সরকারের সদিচ্ছা ও নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে এ সমস্যা উত্তরণ সম্ভব।