উদ্দীপকে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ বিষয়টি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অনেকাংশে ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের যেমন ভূমিকা আছে, তেমনি নাগরিকরাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মূলত নাগরিকের যথাযথ কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই সুশাসন পূর্ণতা পায়। সুশাসনের মূল ভিত্তি হচ্ছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারী পুরুষের সমান অংশগ্রহণ। জনগণের অংশগ্রহণের ফলে সরকারের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়। এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। জনসাধারণের আইন মান্য করার মাধ্যমে রাষ্ট্রের শান্তি- -শৃঙ্খলা ও জনগণের নিরাপত্তা বিধান সম্ভব হয়। জনগণ আইন মান্য করলে সমাজ ও রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নিয়মিত কর প্রদান করা নাগরিকের আইনগত কর্তব্য। তাই রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন তথা সুশাসনের জন্য সঠিক নিয়মে নাগরিকদের কর প্রদান করা উচিত। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ ত্বরান্বিত করে।
ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকের রাজনৈতিক কর্তব্য। ভোটাধিকারের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করে নাগরিকগণ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে। এছাড়া সৎ নিষ্ঠাবান হওয়া দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া সরকারি দায়িত্ব পালন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন প্রভৃতির মাধ্যমে নাগরিকগণ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, নাগরিকের যথাযথ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ওপর সুশাসন প্রতিষ্ঠা অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।