হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত সুশাসনের চারটি প্রধান স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ স্তম্ভ সুশাসনের পাশাপাশি গণতন্ত্রকে সুনিশ্চিত করে- এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত।উদ্দীপকে বর্ণিত যে, বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল। এগুলো হলো: দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ। এগুলোর মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ স্তম্ভ অর্থাৎ 'আইনি কাঠামো' ও 'অংশগ্রহণ' সুশাসনের পাশাপাশি গণতন্ত্রকে সুনিশ্চিত করে। এ মতের পক্ষে নিম্নে যুক্তি প্রদান করা হলো।আইনি কাঠামো: সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আইনি কাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে সরকার ও জনগণের পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারিত হয়। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সকল কার্যক্রম জনগণের কল্যাণে পরিচালিত হলে দেশে সুশাসন নিশ্চিত হবে। সুশাসনের পাশাপাশি গণতন্ত্র সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও আইনি কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত হলো আইনের শাসন। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে এবং জনকল্যাণ সুরক্ষিত হবে। নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলে আইনের দৃষ্টিতে সমান বলে বিবেচিত হবে। সর্বোপরি গণতন্ত্র সুনিশ্চিত হবে।
অংশগ্রহণ: সরকারের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণেরঅংশগ্রহণের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনই সুশাসন। অর্থাৎ সুশাসনের ক্ষেত্রে জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা জনগণের অংশগ্রহণ ব্যতীত শাসনকার্য পরিচালিত হলে সেখানে অনিয়ম ও দুর্নীতির সম্ভাবনা থাকে এবং জনস্বার্থ উপেক্ষিত হয়। ফলে জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালিত হলে যেকোনো নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত হয়। ফলে সরকার জনকল্যাণবিরোধী বা জনস্বার্থ পরিপন্থি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। শাসনকার্যে জনগণের অংশগ্রহণ সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করে। জনগণ তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয়। জনস্বার্থ বিরোধী যেকোনো সরকারি কর্মকান্ডের বিরোধিতা করে সরকারকে জনকল্যাণে পরিচালিত হতে সহায়তা করে।উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আইনি কাঠামো ও দেশের শাসনকার্যে জনগণের অংশগ্রহণ সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গণতন্ত্রকেও সুনিশ্চিত করে।