'?' চিহ্নিত স্থানের বিষয়টি হলো সুশাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।সুশাসন একটি বহুমাত্রিক ধারণা। সুশাসনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় কার্যাবলির পরিচালনা পদ্ধতি, শাসন ও শাসিতের সম্পর্ক, জনকল্যাণ নিশ্চিত করা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাকে বোঝায়। জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রোগ্রাম সুশাসনের কতকগুলো বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো- ১. অংশগ্রহণ, ২. আইনের শাসন, ৩. স্বচ্ছতা, ৪. 'সমতা, ৫. জবাবদিহিতা, ৬. সংবেদনশীলতা প্রভৃতি।উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানের বর্ণনায় যেসব বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে তা সুশাসনের বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরেছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে সুশাসন অপরিহার্য। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশসমূহে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি কাজের, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার তীব্র অভাব পরিলক্ষিত হয়, যা সুশাসনের বড় সমস্যা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবে ব্যাপকভাবে আইনের অপপ্রয়োগ ও ক্ষমতার অপব্যবহার হয়ে থাকে। আবার প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণের দায়িত্বশীলতার অভাব, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি সুশাসনের বড় অন্তরায়। এছাড়াও স্বাধীন 'বিচার বিভাগের অভাব, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অভাব, রাজনৈতিক ঐকমত্যের অভাব, রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সরকারি ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা, জনগণের অংশগ্রহণের অভাব, সামরিক হস্তক্ষেপ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অভাব, কার্যকর স্থানীয় সরকারের অভাব, দারিদ্র্য ও অশিক্ষা, রাজনৈতিক বিরোধ ও সহিংসতা, গণসচেতনতার অভাব, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অভাব, দেশপ্রেমের অভাব প্রভৃতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান। সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। তাই প্রশ্নে উল্লিখিত উক্তিটিকে সমর্থনপূর্বক বলা যায়, সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা বহুমুখী।