উদ্দীপকের আলোকে বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যের সঙ্গে বাস্তবতার তুলনা করো।
উত্তর: বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যের সঙ্গে বাস্তবতার তুলনা করতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে মিল পাওয়া যায় না। বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- পৃথিবীর অনুন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাহায্য করা এবং উন্নয়নশীল বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নিজস্ব তহবিল থেকে ঋণদানের ব্যবস্থা করা। কিন্তু বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশসমূহের অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হলেও বাস্তবতার সাথে এর কোনো মিল নেই। এর বর্তমান কর্মকাণ্ড লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।বর্তমানে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানারকম ষড়যন্ত্র ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের পদ্মা সেতু প্রকল্প। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতু প্রকল্পে স্বল্পসুদে ১২০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল বিশ্বব্যাংকের। কিন্তু দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ২০১১ সালের ২৯ জুন সংস্থাটি পদ্মা সেতু প্রকল্পে তাদের ঋণচুক্তি বাতিল করে। নানা টানাপড়েনের পর শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিন্ধান্ত নেয়। বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে তাদের ঋণ প্রত্যাহার করে নিলেও ষড়যন্ত্রের কোন প্রমাণ দিতে পারে নি। এমনকি বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন এবং কানাডার আদালতও দুর্নীতির কোনো প্রমাণ পায়নি। অথচ কোনো এক অদৃশ্য কারণে, অদৃশ্য কোনো স্বার্থে বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতু প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায়। কাজেই বলা যায়, বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যের সাথে তাদের বর্তমান বাস্তবতার কোনো সাদৃশ্য নেই। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিবর্তে আমেরিকাসহ উন্নত দেশসমূহের স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত বিশ্বব্যাংক।
HSC Civics 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 1st Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকের আলোকে বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যের সঙ্গে বাস্তবতার ত…
উদ্দীপক
Dinajpur · 2017
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর