নারীর মজুরি কখনো পুরুষের সমান হতে পারে না উদ্দীপকের মালিক এর শেষোক্ত এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত নই। জন্মগতভাবে মানুষে মানুষে কোন পার্থক্য নেই। সমাজে বসবাস করার মাধ্যমে মানুষ যেমন সভ্য হয়েছে, তেমনি মানুষের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। সমাজের সাধারণত বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও পেশার লোক বসবাস করে। সমাজে যারা বসবাস করে তাদের সবাই যদি একজন আরেকজনের চেয়ে বেশি অধিকার ভোগ করতে চায় তাহলে সমাজে আর সাম্য থাকবে না। কেননা, সাম্য হলো জাতি-ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থা একটি সমাজকে স্বাভাবিকভাবে চলতে এবং সমাজের উন্নয়নের পাশাপাশি শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করে। সমাজে যদি সামাজিক সাম্য অর্থাৎ জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও পেশাগত কারণে মানুষের পার্থক্য সৃষ্টি না হয় তাহলে সমাজের সকলেই সমভাবে আত্মবিকাশের সুযোগ পাবে। উদ্দীপকের রোজিনার মালিক তাকে পুরুষের সমান মজুরি দিতে অস্বীকার করে বলেন, নারীর মজুরি কখনো পুরুষের সমান হতে পারেনা। রোজিনার মালিকের এ মতামত কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা এর মাধ্যমে নারী-পুরুষের মাঝে বৈষম্য দেখানো হয়েছে। সেটা সভ্য সমাজে কখনো মেনে নেওয়া যায় না।এর মাধ্যমে নারী সমাজ নিগৃহীত হবে প্রতিনিয়ত। এতে রোজিনার মতো নারীদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে। সুতরাং বলা যায়, নারী-পুরুষের মাঝে সকল ধরনের বৈষম্য কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।