উদ্দীপকে উল্লেখিত নির্যাতিত জনগোষ্ঠী সামাজিক সাম্য থেকে বঞ্চিত ছিল। জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও পেশাগত কারণে যখন মানুষের মানুষের কোন পার্থক্য করা হয় না তখন তাকে সামাজিক সাম্য বলে। অর্থাৎ সামাজিক সাম্য মানে হলো সামাজিক ক্ষেত্রে সকলেই সমান। সমাজে যখন সকল মানুষকে সমান সামাজিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয় তখন সামাজিক সাম্যের উদ্ভব ঘটে। এটি এমন এক সামাজিক পরিবেশকে নির্দেশ করে যেখানে স্বীয় যোগ্যতা অনুসারে সকলের সমান সামাজিক অধিকার ভোগ করে। দাস ও সামন্ত সমাজে সামাজিক সাম্যের অস্তিত্ব ছিল না। পরবর্তীকালে আইনের শাসনের প্রসার লাভের ফলে সামাজিক সাম্যর প্রতিষ্ঠিত হয়। সমাজ বা রাষ্ট্রে বসবাসকারী সকল নাগরিক যখন একই আইনের আওতায় আসবে অর্থাৎ ধনী বা শ্বেতাঙ্গরা যে সুযোগ সুবিধা পাবে গরিব বা কালোরাও সেই সুযোগ পাবে। ধনীদের জন্য যে আইন থাকবে গরীবদের জন্য একই আইন থাকবে। তাহলে সমাজের সমাজের সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন ঘটবে। উদ্দীপকে আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ শ্রেণীর বর্ণবাদের শিকার হয়েছিল। যে কারণে তারা একই সাথে পড়াশোনা করতে, একই সাথে ট্রেনে যাতায়াত করতে কিংবা খেলাধুলা করতে পারত না, এমনকি তাদের জন্য আইন ও আলাদাভাবে প্রয়োগ করা হতো। এসব কিছু বিবেচনায় বলা যায়, নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর সামাজিক সাম্য থেকে বঞ্চিত ছিল।