সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইন ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সুশাসন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে সমাজের প্রত্যাশা ও রাষ্ট্রের কর্মকান্ডের মধ্যে সুসামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায়। বর্তমান সময়ের সুশাসন প্রত্যয়টি খুবই আলোচিত একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নানাবিধ প্রতিষ্ঠানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্রের শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা প্রভৃতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। উদ্দীপকে আইন ও নৈতিকতা ধারণা প্রকাশ পেয়েছে। সুশাসনের প্রতিবন্ধকতা দূর করে রাষ্ট্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ দুটি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আন একটি দেশের শাসন ব্যবস্থায় সুশাসনের নিয়ামক গুলো প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত করে। কেননা দেশের আইনের অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকে বিদায় সর্বত্র দুর্নীতি করতে মানুষ সাহস করে না। নিজেদের কাজে জবাবদিহিতা দিতে হবে -এমন বিধিবদ্ধ নিয়ম থাকায় সকলেই নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য স্বচ্ছতা বজায় রাখে যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার। রাষ্ট্রে যদি সকলের জন্য সমভাবে আইন প্রতিষ্ঠা পায় তথা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পায় তবে এই রাষ্ট্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠা অবশ্যম্ভাবী। অন্যদিকে নৈতিকতা বা শুদ্ধাচার ব্যক্তির মধ্যে কর্তব্য নিষ্ঠা ও সততা জাগ্রত করে। আর একটি রাতের সবকিছুর নাগরিককেন্দ্রিক। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রশাসনিক শুদ্ধাচারের পাশাপাশি নাগরিক পর্যায়ে নৈতিকতার অনুশীলন একান্ত অপরিহার্য। আলোচনা শেষে বলা যায়, রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক, কার্যত নাগরিকরাই একটি দেশের সরকার, প্রশাসন, উদ্যোক্তা, ভোক্তা, সেবাদতা,, সেবা গ্রহীতা, ভোটার প্রভৃতি। অর্থাৎ নাগরিকের কর্মের ওপর একটি দেশের সুশাসন নির্ভর করে থাকে। সুতরাং নাগরিকজ্যোতি আইন মান্য করে এবং নৈতিকতা চর্চা করে তবেই একটি রাষ্ট্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত হবে। অন্যথায় সুশাসন একটি প্রত্যয় হিসেবে রাষ্ট্রীয় আলোচনার স্থান পাবে।