উদ্দীপকে বর্ণিত মূল্যবোধের ধারণা যে সমাজে যত বেশি সে সমাজ তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল। উক্তিটি সঠিক ও যথার্থ।মূল্যবোধ সম্পন্ন আজকের শিশুরা ভবিষ্যতে একটি সুশৃংখল ও সুনিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র গঠনে উদ্বুদ্ধ হতে পারবে।
১. মূল্যবোধ ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সততার শিক্ষা দেয়। আমরা দেখতে পাই, সমাজের মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ সততার সাথে দায়িত্ব পালনে ব্রত থাকেন।২. আধুনিক রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বহুদল ও মত থাকে। কাজেই অন্যের মতামত সহনশীলতার সাথে গ্রহণ করে নিজের মতামত প্রকাশ করতে হয়। মূল্যবোধ ব্যক্তিকে সহনশীলতার শিক্ষা দেয়। ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সফলতা লাভ করে।
৩. মূল্যবোধ কোনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে মানসিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে। ফলে তাদের মাঝে জাতীয়তাবোধ সৃষ্টি হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ সৃষ্টি করেছিল।
৪. মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত হলে সে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, সততা-শঠতার পার্থক্য বুঝতে পারে। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত হতে অনুপ্রেরণা লাভ করে।
৫. সত্য সর্বদা সুন্দর। মূল্যবোধ সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর সত্যকে প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ একদিকে যেমন অধ্যবসায়ী হয়, অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসী হয়।
৬. মূল্যবোধের অনুপ্রেরণা মানুষকে তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে, সচেতন করে তোলে। ফলে প্রত্যেকে নিজ অধিকার ভোগে সচেতন হয়। সাথে সাথে তার কর্তব্য পালনেও সচেষ্ট থাকে। এরূপ অধিকার ও কর্তব্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি মানব কল্যাণে ব্রত হয় এবং সমাজের উন্নয়নে সচেষ্ট হয়।
৭. মূল্যবোধ আইনের ভিত্তি। কারণ, মূল্যবোধ বিবর্জিত আইন সমাজে টিকে থাকতে পারে না। অতএব বলা যায়, আইন সভায় প্রণীত আইন মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত বিধায় সমাজের স্বীকৃতি লাভ করে এবং তা কার্যকর করা সম্ভবপর হয়।
উপরিউক্ত আলোচনার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, মানবিক গুণাবলি বিকাশে মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। মানবিক গুণাবলি বিকাশের মাধ্যমে সুসভ্য ও সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধ বিশেষ ভূমিকা পালন করে।