উদ্দীপকে উল্লেখিত আইনের উৎসগুলো অর্থাৎ ধর্ম ও প্রথা ছাড়া আইনের আরও বেশ কিছু উৎস রয়েছে। আইনের উৎস হিসেবে সুনির্দিষ্ট কিছু দিক চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। অধ্যাপক হল্যান্ড আইনের ৬ টি উৎস নির্দিষ্ট করেছেন। যথা-প্রথা, ধর্ম, বিচারকের রায়, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, ন্যায় বোধ ও আইনসভা। তার মধ্যে উদ্দীপকে প্রথা ও ধর্মকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। অনেক সময় বিচারকার্য সম্পন্ন করতে গিয়ে বিচারকগণ নিজস্ব বিচার -বুদ্ধি প্রয়োগ করেন, যা পরবর্তীতে বিচার বিভাগের রায় বা সিদ্ধান্ত হিসেবে পরিগণিত হয়।আবার, আইনবিদগণ বিভিন্ন আইনের অস্পষ্টতা দূরীকরণ সহ বিভিন্ন কারণে ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণ পরবর্তীতে নতুন বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ফলে, আইনবিদদের বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা বা রচিত গ্রন্থ আইনের একটি উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, কখনো বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতা থাকলে বা নবসৃষ্ট সমস্যার ক্ষেত্রে বিচারকগণ তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে ন্যায়বোধ থেকে রায় প্রদান করেন। তাই বিচারকের ন্যায় বোধ আইনের একটি অন্যতম উৎস। আধুনিক যুগে আইনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান উৎস হলো আইনসভা। আইনসভার সদস্যরা জনমতের প্রাধান্যের ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন, সংযোজন, বিয়োজন বা বাতিল করতে সচেষ্ট থাকে। এছাড়াও নির্বাহী ঘোষণা, বৈদেশিক চুক্তি, জনমত, সংবিধান প্রভৃতি আইনের অন্যান্য আরো কিছু উৎস।