"সবুজ সংঘের সদস্যদের মতো দেশের সবাই আইন মেনে চললে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব”- প্রশ্নে উল্লিখিত এ উক্তিটির সাথে আমি একমত।
সাম্যের সাধারণ অর্থ হচ্ছে পরস্পর সমতা ও অভিন্নতা। অর্থাৎ, সাধারণভাবে সাম্য বলতে বোঝায় সকল মানুষ সমান এ ধারণাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সব মানুষ সমান নয়। শারীরিক, মানসিক, গুণগত যোগ্যতার ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে পার্থক্য থাকাটা প্রাকৃতিক ব্যাপার। প্রকৃত অর্থে সাম্য বলতে আমরা এমন এক পরিবেশকে বুঝি, যেখানে প্রতিটি ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের বিকাশের জন্য সমান অনুকূল সুযোগ-সুবিধা পায়। আইন নাগরিককে সাম্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেয়। কারণ আইনের দৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান। আইন সাম্যকে সার্থক করে তোলে। আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই অসাম্যকে দূর করা যায়। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অসাম্য দূর করতে আইনই মানুষকে সহায়তা করে আসছে যুগ যুগ ধরে। ভারতে আইন করে সতীদাহ প্রথা দূর করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো আইনের মাধ্যমে বর্ণবাদ নিষিদ্ধ করা। ল্যাটিন আমেরিকার দেশসমূহে আইনের মাধ্যমেই খনিজ সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দূর করা হয়েছে ধনী-দরিদ্রের পাহাড়সম ব্যবধান।
কাজেই বলা যায়, সবাই যদি আইন মেনে চলে এবং আইনের প্রতি। শ্রদ্ধাশীল থাকে তবে সমাজ ও রাষ্ট্রে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে।